যেতে সাহস করি না। কি জানি—বলা যায় না—এখন ঝড়-তুফানের সময়। সকলেরই প্রাণ যেতে পারে। ইয়োকাহামাও কম দূর নয়—এখান থেকে ১৬৫০ মাইল। সময় মত বোধ হয় যেতেও পারা যাবে না।”
“১৬৫০ মাইল ত নয়, ১৬০০ মাইল।”
“ও একই কথা।”
এতক্ষণে ফিক্স গোয়েন্দা নিশ্বাস ফেলিয়া বাঁচলেন! নাবিক বলিতে লাগিল, “তবে এক কাজ করা যেতে পারে―”
এই সর্ব্বনাশ! নিরুদ্ধ নিশ্বাসে মিঃ ফিক্স নাবিকের মুখের দিকে চাহিয়া রহিলেন। ভাবিলেন, এ আপদ্ জুটিল কোথা হইতে!
মিঃ ফগ কহিলেন, “কি করতে চাও?”
“নাগাসিকি এখান থেকে ১১০০ মাইল, সাংঘাই ৮০০। সাংঘাই গেলে আমরা অনেকটা তীরের কাছ দিয়েই যেতে পারব। স্রোতের টানটাও পাব।”
“কিন্তু আমাকে যে ইয়োকোহামার আমেরিকার ডাক জাহাজ ধরতে হ’বে?”
“বেশ ত তাই হ’বে। সান্ফ্রান্সিস্কোর জাহাজ ত আর ইয়োকোহামা থেকে ছাড়ে না―সাংঘাই থেকেই ছাড়ে। যেতে যেতে ইয়োকোহামা আর নাগাসিকিতে দাঁড়ায়।”
“তুমি ঠিক জান ত?”
“ঠিক জানি।”
“কবে সাংঘাই থেকে ছাড়বে?”
“১১ই তারিখ সন্ধ্যাবেলা। তা’ হ’লেই ৪ দিন এখনো আছে। অর্থাৎ ৯৬ ঘণ্টা। যদি ঘণ্টায় ৮ মাইল করে’ যেতে পারি আর বাতাস থাকে, তা’ হ’লে আমরা ঠিক সময় মতই সাংঘাই পৌঁছিতে পারব।”