তাঁহার সহিত কখনো সাক্ষাৎ করিতে গিয়াছে, ইহার কোনও প্রমাণ নাই। তিনি সংস্কার-সমিতির মিলন-মন্দিরে একাকীই আহার করিতেন। তাঁহার সহিত এক টেবিলে বসিয়া খাইতে কেহ কখনো কাহাকেও দেখে নাই।
চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে যে দশ ঘণ্টাকাল তিনি বাড়ীতে থাকিতেন, তাহার কতকটা নিদ্রায় এবং অবশিষ্ট বেশ-ভূষার কাটিয়া যাইত। যখন তিনি আহারে বসিতেন, তখন ক্লাবের দাসগণ বিশেষ সতর্ক হইয়া তাঁহার পরিচর্য্যায় নিযুক্ত হইত। সর্ব্বোৎকৃষ্ট সামগ্রী ভিন্ন তিনি কখনো আহার করিতেন না। উৎকৃষ্ট চীনামাটীর পরিচ্ছন্ন পাত্রে উৎকৃষ্ট ভোজ্য এবং সুন্দর ও অদ্ভুত আধারে বরফমিশ্রিত উৎকৃষ্ট শেরা ভিন্ন আর কিছুই ফিলিয়াস্ ফগের খানার টেবিলে স্থান পাইত না।
ফিলিয়াসের গৃহটি আড়ম্বরশূন্য অথচ বড় আরামদায়ক ছিল। তাঁহার একটি মাত্র ভৃত্য ছিল; প্রভুর মেজাজ বুঝিয়া তাহাকেও ঠিক ঘড়ির কাঁটার মত নির্দ্দিষ্ট সময়ে সকল কার্য্য করিতে হইত। আমরা যে দিনের কথা বলিতেছি, সেই দিন ভৃত্য জেমস্ ক্ষৌরকার্য্যের জন্য যে গরম জল দিয়াছিল, তাহা ৮৬ ডিগ্রী না হইয়া ৮৪ ডিগ্রী ছিল বলিয়া তৎক্ষণাৎ তাহার চাকুরি গেল।
ফিলিয়াস্ একখানি আরাম-চৌকিতে বসিয়া একদৃষ্টে তাঁহার ঘড়ির দিকে চাহিয়া আছেন। ঘড়িটি বেশ ভাল; ঘণ্টা, মিনিট, সেকেণ্ড, বারের নাম, মাস এবং বৎসর পর্য্যন্ত উহাতে পাওয়া যাইত। ঠন্ করিয়া সাড়ে এগারটা বাজিয়া গেল। প্রতিদিন ঠিক এই সময়েই তিনি ক্লাবে যাইতেন।
পুরাতন ভৃত্য আসিয়া সংবাদ দিল,—“নূতন চাকর এসেছে।”
অবিলম্বে ত্রিংশৎবর্ষবয়স্ক একজন ফরাসী কক্ষমধ্যে প্রবেশ করিল।
ফিলিয়াস্ ফগ কহিলেন, “তুমি দেখ্ছি একজন ফরাসী। তোমার নামই না জন?”