বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৪
৮০ দিনে ভূ-প্রদক্ষিণ

হইতেই আকাশের অবস্থা আশঙ্কাজনক হইয়া উঠিল। সমুদ্রের সুদূর দক্ষিণাংশে বিপুল জলোচ্ছ্বাস লক্ষিত হইতে লাগিল। মাঝি বুন্‌স্‌বি অনেকক্ষণ ধরিয়া চতুর্দ্দিক্ পর্য্যবেক্ষণ করিয়া মিঃ ফগকে কহিল—

 “হুজুর, আমি একটা কথা বলতে চাই।”

 “কি?”

 “আমার আশঙ্কা হয় প্রবল ঝড় হ’বে।”

 “কোন্ দিক্‌ থেকে? উত্তর, না দক্ষিণ?”

 “দক্ষিণ থেকেই হবে বলে বোধ হয়। একটা ঘূর্ণি বাতাস আসছে।”

 “ভালই হয়েছে। দক্ষিণের ঝড়ে আরো বেগে উত্তরে যাওয়ার সুবিধাই হবে!”

 “হুজুর যদি সে কথা বলেন, তা হলে আমার আর কিছু জানাবার নাই।”

 মাঝির সন্দেহ সত্য হইল। রাত্রি ৮ টার সময় দক্ষিণ হইতে প্রবল ঝড় বহিল। যেমন ভীষণ ঝড়, তেমনি মুষলধারে বৃষ্টি! তঙ্কাদিরি বাত্যাতাড়িত হইয়া এত বেগে চলিতে লাগিল যে, এক এক বার তরঙ্গস্পর্শ ত্যাগ করিয়া শূন্যে উত্থিত হইতে লাগিল। পর্ব্বত প্রমাণ তরঙ্গ আসিয়া সেই ক্ষুদ্র তরণীকে গ্রাস করিবার চেষ্টা করিতে লাগিল। কখনো বা তঙ্কাদিরি দুইটা বিশাল তরঙ্গের মধ্যে পড়িয়া নিমজ্জমান হইতে চলিল! কিন্তু ধন্য বুন্‌স্‌বির নৌচালন-কৌশল! তরঙ্গের পর তরঙ্গ আসিয়া তঙ্কাদিরিকে স্পর্শ করিতে লাগিল, তরণীগাত্রে ভীমবেগে আঘাত করিতে লাগিল, ক্ষুদ্র কুটার ন্যায় উহাকে শূন্যে উৎক্ষিপ্ত করিয়া পুনরার অতল-তলে টানিয়া লইতে চাহিল! কিন্তু তঙ্কাদিরি ডুবিল না, তুফানে নক্ষত্রবেগে অগ্রসর হইতে লাগিল।