বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১২৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১২০
৮০ দিনে ভূ-প্রদক্ষিণ

স্বপ্নঘোরে “কর্ণাটিক কর্ণাটিক” বলিয়া চীৎকার করিতে করিতে জেটীর দিকে চলিল। জেটী অধিক দূরে ছিল না। নাবিকগণ তখন কর্ণাটিক পোতের সিঁড়ি উঠাইতেছিল। জিয়েন কাঁপিতে কাঁপিতে কর্ণাটিকের ডেকে যাইয়া উঠিল এবং “কর্ণাটিক কর্ণাটিক” বলিয়া কয়েকবার চীৎকার করিয়াই তৎক্ষণাৎ অচেতন হইয়া পড়িয়া গেল। হংকং বন্দরে যাত্রীদিগের মধ্যে এরূপ ঘটনা দেখিয়া জাহাজের নাবিকগণ অভ্যস্ত হইয়াছিল। তাহারা বিশেষ বিস্মিত হইল না, চেতনাহীন জিয়েনকে ডেক হইতে তুলিয়া একটা কামরার মধ্যে রাখিয়া আসিল।

 প্রভাতে সমুদ্রের শীতল বাতাসে ধীরে ধীরে জিয়েনের বুদ্ধি স্থির হইল। তাহার তখন সকল কথা মনে পড়িল। সে ভাবিল, “আমি এমন মাতাল হ’য়েছিলেম দেখলে মিঃ ফগ কি বল্‌বেন! যা’হোক্‌ আমি যে জাহাজে উঠেছি এই ঢের। ফিক্স গোয়েন্দা নিশ্চয়ই এখানে আসতে সাহস পায় নাই। কি আশ্চর্য্য! আমার অমন প্রভুকেও দস্যু সন্দেহ করে’ সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা ফিরছে! এ কথা কি এখনই তাঁর কাছে প্রকাশ করে’ বলব? না এখন থাক্। গোয়েন্দা পুলিশ আগে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীটা ঘুরুক্, তারপর লণ্ডনে যেয়ে তা’কে নিয়ে বেশ একটা মজা করা যাবে।”

 জিয়েন মন স্থির করিয়া ডেক হইতে উঠিল এবং মিঃ ফগের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য তাঁহার কামরার সন্ধানে চলিল। সমস্ত জাহাজ তন্ন তন্ন করিয়া অনুসন্ধানের পর যখন সে ফগের সাক্ষাৎ পাইল না, তখন তাহার মনে হইল সুরার মত্ততায় সে বুঝি অন্য কোন জাহাজে উঠিয়াছে—এ বুঝি কর্ণাটিক নহে। সে কাপ্তানকে জিজ্ঞাসা করিল—

 “এ কোন্ জাহাজ?”

 “কর্ণাটিক।”