“না, জন্ নয়। আমাকে জিয়েন্ ব’লবেন। আমি পরিবর্ত্তনের পক্ষপাতী নই ব’লে লোকে আমাকে পাসে পার্ত্তুত্ বলে। আমার বিশ্বাস, আমি অসৎ নই। এ পর্য্যন্ত আমি অনেক রকম কাজ করেছি। কিছু দিন পথে পথে গান গেয়ে বেড়াতেম; এক সার্কাসের দলে ঘোড়-সওয়ারও কিছুদিন ছিলাম। আমি সেখানে সুদক্ষ লিওটার্ডের মত ট্রাপিজে বাজী দেখাতেম আর সুনিপুণ ব্লণ্ডিনের মত অনায়াসে দড়ীর উপর দিয়ে হেঁটে বেড়াতেম। তার পর কিছুদিন এক কুস্তির আখড়ার সর্দ্দার হই। শেষে এক দিন মনে করলেম, দেশের একটা কাজে লাগাই উচিত। তাই প্যারিসের ফায়ারম্যান হয়েছিলেম। আজও আমার পিঠে অনেক অগ্নিক্ষতের চিহ্ন বর্ত্তমান আছে। আমি পাঁচ বৎসর ফ্রান্স ছেড়েছি। ঘর-সংসারের সুখ-সুবিধার আশায় ইংলণ্ডে একজনের চাকুরি গ্রহণ করেছিলেম। কিন্তু তাঁর কাছে কাজ করা আমার পোষালো না। এখন তাই বেকার ব’সে আছি। শুনলেম, আপনার একজন চাকর চাই। আপনিও শুন্লেম্—সংযমী এবং ঠিক নিয়মিত সময়েই সকল কাজ করেন। আপনার কাছে সুখে শান্তিতে থাকতে পারবো ভরসায় এসেছি। দেখি, যদি আমার পাসে পার্ত্তুত্ অপবাদটা এতদিনে মুছে যায়।”
মিঃ ফগ উত্তর করিলেন, “আমিও পাসে পার্ত্তুত্ই চাই। তোমার সাধুতার কথা আমি শুনেছি। তোমার প্রশংসাপত্রও আমি দেখেছি। এ চাকুরির সর্ত্তগুলো সব জান ত?”
“আজ্ঞা হাঁ, জানি।”
“বেশ। এখন ক’টা বেজেছে?”
জিয়েন তাহার পকেট হইতে একটি প্রকাণ্ড ঘড়ি বাহির করিয়া কহিল, “এগারটা বাইশ মিনিট।”
“তোমার ঘড়ি ত ঠিক নয়―বড় ধীর।”