বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রথম পরিচ্ছেদ—বিনা সম্বলে পথ চলিও না
১২১

 “ইয়োকোহামা যাচ্ছে?”

 “হাঁ।”

 তখন তাহার ভরসা হইল মিঃ ফগ নিশ্চয়ই জাহাজে আছেন। হয় ত বা কোথাও বসিয়া হুইষ্ট খেলিতেছেন। জিয়েন জাহাজের আরোহীদিগের নামের তালিকা দেখিল। কৈ ইহাতে ত তাঁহার নাম নাই!

 জিয়েন হতবুদ্ধি হইয়া একখানি চেয়ারে বসিয়া পড়িল। তখন তাহার মনে পড়িল, জাহাজ ছাড়িবার সময় যে পরিবর্ত্তিত হইয়াছিল, সে সংবাদ ত মিঃ ফগকে দেওয়া ঘটে নাই! অনুতাপে তাহার হৃদয় দগ্ধ হইতে লাগিল। সে মনে মনে ভাবিল, “হায় আমার জন্যই তাঁর আজ সর্ব্বনাশ ঘটিল। আমার জন্যই তিনি আজ সর্ব্বস্বান্ত, পুলিশের হস্তে বন্দী, হয়ত বা কারারুদ্ধ হ’য়ে থাক্‌বেন!”

 জিয়েন যদিও নিজের ত্রুটি বুঝিতে পারিতেছিল, কিন্তু গোয়েন্দার অপরাধই তাহার নিকট আরো গুরুতর বলিয়া প্রতীয়মান হইল। ক্রোধে জিয়েনের সর্ব্বাঙ্গ কম্পিত হইতে লাগিল। তখন যদি সে মুহূর্ত্তের জন্যও গোয়েন্দাকে নিকটে পাইত!

 সুরার মত্ততাও যেমন ধীরে ধীরে গিয়াছিল, ক্রোধও তেমনি ধীরে ধীরে অন্তর্হিত হইল। জিয়েন তখন নিজের অবস্থার আলোচনা করিতে লাগিল। ইয়োকোহামা পর্য্যন্ত তাহার আর জাহাজ ভাড়া লাগিবে না সত্য, কারণ পূর্ব্বেই টিকেট ক্রয় করা হইয়াছিল। জাহাজে ভোজ্য ও পেয়ের অভাব ছিল না। সুতরাং ইয়োকোহামা পর্য্যন্ত আহারেরও কোন কষ্ট হইবে না তাহা সে জানিত। কিন্তু তারপর! সে যে তখন কপর্দ্দকহীন! জিয়েন আর অধিক ভাবিতেও পারিল না, অদৃষ্টকে সম্বল করিয়া ভবিষ্যতের দিকে চাহিয়া রহিল।