বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রথম পরিচ্ছেদ—বিনা সম্বলে পথ চলিও না
১২৩

অপেক্ষা করিতেছে। সুন্দরী রমণীরা কেহ চটের, কেহ বেত্রের পাদুকায় চরণ আবৃত করিয়া ধীর পাদবিক্ষেপে ইতস্ততঃ বিচরণ করিতেছে। তাহাদিগের অপেক্ষাকৃত অনায়ত লোচন, প্রশস্ত বক্ষ, মসিবর্ণ দশন জিয়েনের নয়নপটে এক নূতন জগৎ চিত্রিত করিয়া দিল। রেশমী ওড়নায় সজ্জিত, পশ্চাতে গ্রন্থিবিশিষ্ট তাহাদিগের সুবিন্যস্ত জাতীয় পোষাকগুলি জিয়েনকে ফরাসী ললনার কথা স্মরণ করাইয়া দিতে লাগিল। সে দেখিল ফরাসী রমণীগণ জাপান হইতেই এই প্রকার পরিচ্ছদের অনুকরণ করিয়াছে।

 জিয়েন এইরূপে ভ্রমণ করিতে করিতে ইয়োকোহামার বাজারে আসিয়া উপস্থিত হইল। জহরতের দোকানে কত হীরা মতি আলোকসম্পাতে জ্বলিতেছে, মিষ্টান্নের দোকানে কত সুন্দর সুন্দর রসনাতৃপ্তিকর ভোজ্য সজ্জিত রহিয়াছে, চা’র দোকানে জাপানীরা বসিরা স্বচ্ছন্দ চিত্তে ‘সাকি’ নামক সুরাপান করিতেছে। কেহ কেহ বা ধূমপানশালায় বসিয়া অতি মনোহর তামাকু পানে চিত্ত বিনোদন করিতেছে।

 ক্রমে সন্ধ্যা হইয়া আসিল। অর্থহীন জিয়েন তখন ধীরে ধীরে ধীবরদিগের মশালের আলোকে উজ্জ্বল একটা জেটীর দিকে গমন করিল। তাহার আহারের বিশেষ ইচ্ছা ছিল বটে, কিন্তু অর্থাভাবে সে সুযোগ ঘটিল না। জিয়েন এখন বুঝিল যে গৃহের বাহির হইলেই কিছু অর্থ সঙ্গে না থাকিলে চলে না।