দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
জগন্নাথের রথ
কলের রজনীই প্রভাত হয়, জিয়েনেরও হইল। প্রভাতে সে দেখিল ক্ষুধা তাহাকে অত্যন্ত দুর্ব্বল ও শ্রান্ত করিয়াছে, কিছু আহার না করিলে আর চলে না।
অর্থ নাই—দেশ অপরিচিত—কে তাহাকে আহার দিবে। তখনো তাহার ঘড়িটা সঙ্গেই ছিল। কিন্তু উহার উপর জিয়েনের এতই মমতা হইয়াছিল যে, সে স্থির করিল বরং অনাহারে মরিবে, তবুও ঘড়িটী বিক্রয় করিবে না।
সে দেখিল তাহার বর্ত্তমান অবস্থায় পরিচ্ছদটী পরিবর্ত্তন করিলে বিশেষ আসিয়া যায় না—বরং পকেটে কিছু আসিতেও পারে। জিয়েন অবিলম্বে একজন পুরাতন-পোষাক-বিক্রেতার দোকান অন্বেষণ করিয়া বাহির করিল এবং নিজের পরিচ্ছদের পরিবর্ত্তে একটী পুরাতন জাপানী পরিচ্ছদ ও কিঞ্চিৎ অর্থ সংগ্রহ করিয়া হৃষ্ট চিত্তে রাজপথে বাহির হইল। সম্মুখেই একটা পান্থনিবাস ছিল। তথায় কিঞ্চিৎ আহার করিয়া জিয়েন জাহাজঘাটার দিকে অগ্রসর হইল। ইচ্ছা, যদি আমেরিকাগামী কোনো জাহাজের বাবুর্চ্চি বা ভৃত্য হইয়া জাপান ত্যাগ করিতে পারে।
সুপারিস ভিন্ন দাসত্বের সৌভাগ্যও ঘটে না! জিয়েনের তাহা ছিল