বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ—জগন্নাথের রথ
১২৭

 “তোমার গায়ে একটু জোর-টোর আছে বলে’ বোধ হয়—কেমন?”

 “খেতে পেলেই আমার জোর হয়।”

 “তুমি গাইতে জান?”

 "জানি।”

 “এ গানের মধ্যে কথা আছে। মাটিতে মাথা রেখে পা দু’টো তুল্‌তে হ’বে। তোমার বাঁ পায়ের তেলোর উপর একটা লাটিম ঘুরবে আর ডা’ন পায়ের উপর একখানা তরোয়াল এমন করে রাখতে হবে যে না পড়ে। সেই অবস্থায় গান গাইতে হ’বে। পার্‌বে?”

 “ওসব কিছু কিছু জানা আছে বৈ কি।”

 “তবে ত বুঝলেই—এই তোমার কাজ। যদি পার তবে এস।”

 জিয়েন তন্মুহূর্ত্তেই সেই বাজীকরের দলে চাকুরি লইল। ভগবান্ টিঙ্গুর দীর্ঘনাসা ভক্তগণ অন্য জগন্নাথের রথ দেখাইবে। অভিনয়মণ্ডপে লোকারণ্য হইয়াছে, মধ্যে মধ্যে ঐক্যতান বাদন চলিতেছে। অভিনয় আরম্ভ হইল।

 পৃথিবীর মধ্যে জাপানীরাই সর্ব্বোৎকৃষ্ট বাজীকর বলিয়া সুপরিচিত। একজন কতকগুলি কাগজের টুকরা লইয়া তাহা দ্বারা পাখার বাতাসে প্রজাপতি ও পুষ্প প্রস্তুত করিতে লাগিল। আর একজন তাহার মুখনিঃসৃত চুরুটের ধূমে শূন্যে স্বাগত বাক্য রচিত করিয়া দর্শকদিগকে অভিনন্দন করিল। কেহ বা অন্যান্য কলা-কৌশল প্রদর্শন করিতে করিতে অলক্ষিতে অনেকগুলি আলোকবর্ত্তিকা নির্ব্বাপিত করিয়া দিল। আবার সেগুলি প্রজ্বালিত করিল। আর একজন বাজীকর কয়েকটা লাটিম ঘুরাইতে লাগিল। লাটিমগুলি নলের উপর উঠিতে লাগিল, কখনো বা নীচে নামিতে লাগিল—আবার তরবারির ধারের উপর দিয়া চলিতে আরম্ভ