করিল। দেখিতে না দেখিতে কখনো লৌহতারের উপর দৌড়াইতে লাগিল, এমন কি একগাছি সুক্ষ্ম কেশের উপর দিয়া পর্য্যন্ত নড়িয়া চড়িয়া বেড়াইতে আরম্ভ করিল! কতকগুলি লাটিম সারিবিন্যস্ত স্ফটিক পাত্রের চতুর্দ্দিকে বন্ বন্ করিয়া ঘুরিতে লাগিল। আবার কতকগুলি নানাবিধ মধুর শব্দ করিতে করিতে রঙ্গমঞ্চের চতুর্দ্দিকে ভ্রমণ করিতে আরম্ভ করিল। বাজীকরগণ সেই ঘূর্ণিত লাটিমগুলি শূন্যে নিক্ষেপ করিল। মাকুর ন্যায় দক্ষিণে ও বামে চালাইতে লাগিল—কখনো বা পকেটের মধ্যে রাখিয়া দিল, আবার পরক্ষণেই বাহির করিয়া দেখাইল যে সেগুলি তখনো ঘুরিতেছে!
মধ্যযুগে প্রচলিত পরিচ্ছদে সজ্জিত হইয়া কতকগুলি পক্ষবিশিষ্ট বাজীকর তখন রঙ্গমঞ্চে আসিয়া দেখা দিল। ইহারাই ভগবান্ টিঙ্গুর দীর্ঘনাসা ভক্তবৃন্দ। তাহাদিগের অভিনয়-কৌশল দেখিবার জন্য দর্শকগণ সোৎসুকচিত্তে অপেক্ষা করিতেছিল। বাজীকরদিগের সুদীর্ঘ নাসিকা রঙ্গমঞ্চে এক অভিনব দৃশ্যের সৃষ্টি করিল। কাহারো নাসিকা ৮ হস্ত পরিমিত দীর্ঘ। নাসারন্ধ্র বক্র। কাহারো বা ৪ হস্ত, কাহারো বা ৫ হস্ত দীর্ঘ নাসিকা নানাবর্ণে রঞ্জিত। কাহারো নাসা মসৃণ, কাহারো বা তরঙ্গায়িত, কাহারো সরল, কাহারো বা অতিমাত্র বক্র। নাসিকাগুলি বংশদণ্ডে নির্ম্মিত। দ্বাদশ জন দীর্ঘনাসা চিৎ হইয়া রঙ্গমঞ্চে শয়ন করিল। তাহাদিগের কয়েক জন সঙ্গী অদ্ভুত পরিচ্ছদে সজ্জিত হইয়া, শায়িত ভক্তদিগের দীর্ঘনাসিকার উপর সুকৌশলে নানাবিধ উল্লঙ্ঘন-ক্রীড়া প্রদর্শন করিতে লাগিল।
তখন ৫০ জন দীর্ঘনাসা ভক্ত আসিয়া উপস্থিত হইল। ইহারাই পরস্পর পরস্পরের নাসিকার উপর অবস্থান করিয়া জগন্নাথের রথের অনুকরণ করিবে। জিয়েন এই দলের মধ্যে ছিল। সে নিতান্ত ক্ষুব্ধচিত্তে নানা