বর্ণানুরঞ্জিত পক্ষদ্বয় লাগাইল। চারি হস্ত পরিমিত বংশদণ্ড সুকৌশলে তাহার নাসিকার সহিত সংযুক্ত করিয়া সে ভগবান্ টিঙ্গুর ভক্ত সাজিল। কয়েকজন দীর্ঘনাসা তখন রঙ্গমঞ্চের উপর শয়ন করিল। তাহাদিগের নাসিকার উপর আর কয়েকজন শয়ন করিল। তাহাদিগের নাসিকার উপর আবার আর একদল স্থান পাইল! এইরূপে সেই মনুষ্য-মন্দির―সেই জগন্নাথের রথ থাকে থাকে ঊর্দ্ধে উঠিতে লাগিল। উঠিতে উঠিতে মন্দির-চূড়া অবশেষে অভিনয়-মণ্ডপ স্পর্শ করিল! দর্শকগণ আনন্দে উৎফুল্ল হইয়া ঘন ঘন করতালি দিতে লাগিল—গভীর শব্দে ঐক্যতানবাদ্য বাজিয়া উঠিল!
এ কি? মনুষ্য-মন্দির কাঁপিতেছে না? সকলে সবিস্ময়ে চাহিয়া দেখিল সত্যই ত কাঁপিতেছে। ওই যে সর্ব্বনিম্ন তলের একটী নাসিকা খুলিয়া গেল! অমনি অবিলম্বে জগন্নাথ দেবের রথ ভাঙ্গিয়া ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িল! ভক্তগণ কে কোথায় আছাড় খাইয়া পড়িল তাহা কে বলিবে!
জিয়েনের জন্যই এই বিভ্রাট ঘটিল। পতনকালের সেই গণ্ডগোলের ভিতর হইতে কোনমতে বাহির হইয়া জিয়েন এক লম্ফে ‘ফুট লাইট’ অতিক্রম করিল এবং দৌড়াইয়া গিয়া দর্শকদিগের মধ্যে এক জনের পদতলে পড়িয়া আবেগপূর্ণ বাষ্প নিরুদ্ধ কণ্ঠে কহিল, “প্রভু, ক্ষমা করুন—ক্ষমা করুন।”
“এ কি! জিয়েন যে।”
“আজ্ঞা হাঁ, আমি।”
“যাও, জাহাজে ওঠগে।”
জিয়েন তখন মিঃ ফগ ও রাণী আউদার সহিত অভিনয়-মণ্ডপ পরিত্যাগ করিল। দ্বারদেশেই দলের অধিকারী মিঃ বাটুল্কার নিতান্ত