“ক্ষমা ক’র্বেন—তা অসম্ভব!”
“তোমার ঘড়ি ৪ মিনিট কম আছে। তা যাক্, ভুলটা সংশোধন করলেই হ’লো। আজ ১৮৭২ সালের ২রা অক্টোবর। বেলা ১১টা বেজে ২৬ মিনিটের সময় তুমি আমার কাজে ভর্ত্তি হ’লে?”
কথা বলিতে বলিতেই ফিলিয়াস্ ফগ আরাম-চৌকি ত্যাগ করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইলেন। ঠিক একটা যন্ত্রচালিত পুত্তলিকাবৎ টুপীটা লইয়া মাথায় দিলেন এবং বিনা বাক্যব্যয়ে কক্ষ হইতে নিষ্ক্রান্ত হইলেন।
প্রভুর সম্মুখে দাঁড়াইয়া জিয়েন এতক্ষণ তাঁহার সর্ব্বাঙ্গ নিরীক্ষণ করিতেছিল। সে দেখিল, ফিলিয়াসের বয়স চল্লিশের অধিক হইবে না। তাঁহার মুখখানি সুন্দর, দেহ সুদৃঢ় ও দীর্ঘ, কেশদাম নিবিড় না হইলেও বিরল নহে। তাঁহার ভ্রূযুগ সুস্পষ্ট, দশনপংক্তি মনোরম। আকৃতি দেখিলেই মনে হয়, ইনি শুধু কথার লোক নহেন—কাজের লোক। স্থির, ধীর, গম্ভীর চক্ষুর্দ্বয় অচঞ্চল ও দৃঢ়তাব্যঞ্জক।
যাহারা বিশেষ লক্ষ্য করিয়াছিল, তাহারা জানিত, ফিলিয়াস্ কখনো বৃথা কোন কাজ করিতেন না। যেখানে এক পা ফেলিলেই চলে, সেখানে কেহ তাঁহাকে দুই পদ অগ্রসর হইতে দেখে নাই। যে পথে গেলে অপেক্ষাকৃত অল্প সময়েই গন্তব্য স্থানে উপনীত হওয়া যায়, ফিলিয়াস্ সর্ব্বদা সেই সহজ পথই অবলম্বন করিতেন। অকারণে একটা অঙ্গ-সঞ্চালন—এমন কি, একটা দৃষ্টি নিক্ষেপ করাও তাঁহার অভ্যাস ছিল না। বিপাকে বা হর্ষে অবিচলিত, বিপদে অচঞ্চল, সর্ব্বদা শান্ত, সর্ব্বকার্য্যে ধীর, স্থির ও দৃঢ় ফিলিয়াস্ ফগ একটি আশ্চর্য্য প্রকৃতির লোক ছিলেন। ব্যস্ত হইয়া একান্ত উৎকণ্ঠিতচিত্তে কোথাও যাইতে কেহ তাঁহাকে দেখে নাই। অথচ গন্তব্য স্থানে পৌঁছিতে কখনো তাঁহার বিলম্বও ঘটে নাই। তিনি একাকী থাকিতেন; এমন কি সমাজ-সীমার বাহিরেরে বাস করিতেন