থাকিতে পারিল না। তাহার দীর্ঘনাসা নড়িয়া উঠিল এবং অকস্মাৎ স্থানচ্যুত হইল! একটা নির্ভর-স্তম্ভ ভাঙ্গিবামাত্রই সেই বৃহৎ রথও মুহূর্ত্তে খসিয়া পড়িয়াছিল।
রাণী আউদার নিকট জিয়েন তাহার প্রভুর সমুদ্রযাত্রার কাহিনী শ্রবণ করিল। সে আরও শুনিল যে ফিক্স নামে একজন ইংরাজ ভদ্রলোকও তাঁহাদিগের সঙ্গেই ইয়োকোহামায় আসিয়াছেন। গোয়েন্দার নাম শুনিয়া জিয়েন কিছুমাত্র চাঞ্চল্য প্রকাশ করিল না। সে ভাবিল উপযুক্ত সময়ে সমস্তই প্রকাশ করিয়া দিবে। আত্মকাহিনী বর্ণনকালে সে শুধু বলিল যে অহিফেন তাহাকে অচৈতন্য করাতেই তাহার এত দুর্দ্দশা ঘটিয়াছে। মিঃ ফগ সমস্ত শুনিয়া কৃপাপরবশ হইয়া তাহাকে পরিচ্ছদাদি ক্রয় করিবার অর্থ প্রদান করিলেন।
ফিক্স গোয়েন্দাও ‘জেনেরাল গ্রাণ্ট’ জাহাজেই ছিলেন। ইয়োকোহামা পৌঁছিয়াই তিনি দেখিলেন সেই প্রত্যাশিত পরোয়ানা বিলাত হইতে আসিয়াছে। কিন্তু তাহার বলে তখন আর মিঃ ফগকে ধৃত করিবার কোনো সম্ভাবনা ছিল না! ইংরাজের রাজ্যের বাহিরে আসামীকে ধরিতে হইলে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন। সাধারণ গ্রেপ্তারী পরোয়ানায় কোন ফল হয় না। বিশেষ ব্যবস্থা করিবার সময় তখন ছিল না। ফিক্স ভাবিলেন, “যাহোক্ পরোয়ানা ত এসেছে, এখানে না হয় দস্যুকে না-ই ধরিলাম, ইংলণ্ডে যাওয়ামাত্রই ধরিব। তখন কে রাখে দেখিব। সেখানে যেতে যেতেই মিঃ ফগ বোধ হয় অবশিষ্ট অর্থ খরচ করে ফেল্বেন! তার আর উপায় কি। ফগ যাহাতে সত্বর ইংলণ্ডে যেতে পারেন এখন তারই ব্যবস্থা করতে হ’বে।”
যখন মিঃ ফগ জিয়েনকে লইয়া জাহাজে উঠেন, ফিক্স গোয়েন্দা তখনই উঠিতেছিলেন। তিনি সবিস্ময়ে দেখিলেন, অদ্ভুত পক্ষবিশিষ্ট