জিয়েনও সেই জাহাজেই উপস্থিত! তিনি তাড়াতাড়ি নিজের কামরায় প্রস্থান করিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাঁহাকে সেই রজনীতেই জিয়েনের সম্মুখে আনিয়া উপস্থিত করিল!
তাঁহাকে দেখিবামাত্রই জিয়েন আর বাক্যব্যয় না করিয়া তাঁহার কণ্ঠ চাপিয়া ধরিল এবং মুহুর্ম্মুহুঃ মুষ্ট্যাঘাত করিতে লাগিল! নিদারুণ প্রহারে গোয়েন্দা ফিক্স জাহাজের ডেকের উপর পতিত হইলেন। নাবিক এবং যাত্রীদিগের মধ্যে অনেকে চতুর্দ্দিকে দাঁড়াইয়া হো হো করিয়া হাসিতে লাগিল!
মিঃ ফিক্স যখন কাতর কণ্ঠে কহিলেন, “আর কেন জিয়েন, ঢের হয়েছে।” তখন জিয়েন তাঁহাকে ছাড়িয়া দিয়া বলিল,—
“হাঁ, এখনকার মত হয়েছে বটে।”
“এস তবে, তোমার সঙ্গে আমার কথা আছে।”
“কিন্তু—”
“আমি এখন যা বল্বো, তা’ তোমার মনিবের মঙ্গলের জন্যই বল্বো জান্বে।”
“বেশ!”
উভয়ে জাহাজের অন্য দিকে গমন করিলেন। মিঃ ফিক্স বলিতে লাগিলেন,—
“তুমি ত আমাকে খুব শিক্ষা দিলে দেখছি। বেশ ভালই। এমন যে ঘটরে তা’ কতকটা আমার জানাই ছিল। কিন্তু আমার কথাগুলো এখন মন দিয়ে শোন। এতদিন পর্য্যন্ত আমি মিঃ ফগের বিরুদ্ধাচরণ করেছি। কিন্তু এখন থেকে আমি তাঁর পক্ষাবলম্বন কর্বো।”
“তা’ হ’লে দেখছি আপনি এখন বিশ্বাস করেন যে আমার প্রভু নির্দ্দোষ?”