“না—তা’ নয়। আমার এখনো বিশ্বাস তিনিই দস্যু! অত ব্যস্ত হ’য়ো না―আমি বলি শোন। মিঃ ফগ যতদিন ইংরাজ-রাজত্বের মধ্যে ছিলেন, ততদিন আমি তাঁকে আটক কর্তে অনেক চেষ্টা করেছি। তাঁর পেছনে বোম্বাইয়ের পুরোহিতদের আমিই লাগিয়েছিলেম, হংকংএ আমিই তোমাকে হতজ্ঞান করে রেখেছিলেম। মিঃ ফগ সেই জন্যই ইয়োকোহামার জাহাজ ধরতে পারেন নাই।”
জিয়েন শুনিতে শুনিতে ক্রোধে অগ্নি-শর্ম্মা হইতেছিল। সে তাঁহার অজ্ঞাতে মুষ্টিবদ্ধ করিল। তাহার নয়নদ্বয় জ্বলিতে লাগিল। গোয়েন্দা কহিলেন,―
“রাগ করো না—ঠাণ্ডা হ’য়ে কথা শোন। আমার বোধ হচ্ছে মিঃ ফগ এখন ইংলণ্ডে ফিরবেন। আমিও তাঁর অনুসরণ করবো। কিন্তু তিনি যাতে নির্ব্বিঘ্নে ইংলণ্ডে যেতে পারেন, আমাকে সেই চেষ্টাই করতে হ’বে। ইংলণ্ডেই জানা যাবে তিনি দোষী কি নির্দ্দোষ! ততদিন তুমিও যেমন তাঁর মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী, আমিও তাই।”
ফিক্স গোয়েন্দা এরূপ দৃঢ়ভাবে কথাগুলি বলিলেন যে জিয়েনের বিশ্বাস হইল। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন,―
“কেমন জিয়েন, তবে আজ থেকে আমরা বন্ধু!”
“বন্ধু! কখনো না! আমরা বন্ধু ত হ’তেই পারি না। তবে আজ থেকে আমরা মিঃ ফগের সহযোগী। কিন্তু একটা কথা—যে মুহূর্ত্তে দেখবো আপনি তাঁর অনিষ্ট-চেষ্টায় অঙ্গুলি হেলনমাত্র করেছেন, সেই মুহূর্ত্তেই আপনার ঘাড় মুচড়ে ভেঙ্গে দিব। আমি যে তা’ পারবো সে পরিচয় বোধ হয় একটু আগেই পেয়েছেন! এ কথা যেন মনে থাকে।”
স্থির ভাবে গোয়েন্দা কহিলেন, “তাই, বেশ তাই হ’বে।”