বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৪৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ—গোয়েন্দার শিক্ষালাভ
১৩৫

 উভয়ে তখন জাহাজের ভিন্ন দিকে গমন করিলেন। ‘জেনারেল গ্রাণ্ট’ বেশ দ্রুতগামী ছিল। মিঃ ফগ হিসাব করিয়া দেখিলেন যে তিনি ২রা ডিসেম্বর সান্‌ফ্রান্সিস্‌কো, ১১ই নিউইয়র্ক এবং ২০শে লণ্ডনে পৌঁছিতে পারিবেন।

 প্রশান্ত মহাসাগর—নামেও প্রশান্ত, কার্য্যেও তাহাই ছিল। অচঞ্চল বারিরাশি ভেদ করিয়া ‘জেনারেল গ্রাণ্ট’ ঘণ্টায় ১২।১৩ মাইল করিয়া চলিতে লাগিল। আরোহিগণ নিরুদ্বেগে পান ভোজন ও নিদ্রায় মনোনিবেশ করিল। উল্লেখযোগ্য বিশেষ কোন ঘটনা জাহাজে ঘটিল না। যাহা কিছু ঘটিয়াছিল, তাহাও রাণী আউদার হৃদয়ে, পৃথিবীর সহিত তাহার বিশেষ সম্বন্ধ ছিল না।

 সে কোমল হৃদয় ক্রমেই মিঃ ফগের দিকে অলক্ষিতে আকৃষ্ট হইতেছিল। সে আকর্ষণের কারণ যে শুধু কৃতজ্ঞতা, রাণী আউদা তাহা ভাবিলেও সকলে স্বীকার করিবে না। কৃতজ্ঞতা অপেক্ষাও অনেক অধিক শক্তিশালী কি একটা ভাব কি একটা আকর্ষণ যেন রাণী আউদাকে ক্রমেই ফগের পক্ষপাতিনী করিয়া তুলিতেছিল। মিঃ ফগের হৃদয়ে কোন চাঞ্চল্য উপস্থিত হইয়াছিল কি না তাহার প্রমাণ নাই।

 জাহাজ যেমন চলিতেছিল, চলিতেই লাগিল।