দ্রব্যেরই অভাব ছিল না। প্রাতরাশের পর তিনি রাণী আউদাকে লইয়া ইংরাজ কন্সালের আফিসে গমন করিলেন। ছাড়পত্রখানিতে কন্সালের স্বাক্ষর লইবার আবশ্যক ছিল। জিয়েন কহিল, “শুনেছি আমেরিকার রেলপথে অনেক দস্যু-তস্করের ভয় আছে। তাহারা চলন্ত ট্রেণে লুণ্ঠন করে। গোটাকতক রিভলভার কিনে নিলে হয়।”
মিঃ ফগ কহিলেন, “ইচ্ছা হয় কিনতে পার। পথে হয় ত কোন আবশ্যকই হবে না।”
মিঃ ফগ কিয়দ্দূর অগ্রসর হইতেই অকস্মাৎ রাজপথে ফিক্স গোয়েন্দার সহিত সাক্ষাৎ হইল। তাঁহাকে দেখাইয়া ফগ কহিলেন, “বড় আশ্চর্য্যের কথা ত আমরা এক জাহাজেই এসেছি, অথচ আপনার সঙ্গে জাহাজে একটা দিনও দেখা হয়নি!”
গোয়েন্দা পূর্ব্বকথা উল্লেখ করিয়া কৃতজ্ঞতা জানাইলেন এবং কহিলেন “আপনার মত লোকের সঙ্গে একত্রে ভ্রমণ করা সৌভাগ্যের কথা। আমিও কার্য্যের খাতিরে ইউরোপেই যাচ্ছি। যদি বাধা না থাকে, আমরা এক সঙ্গেই যেতে পারি।”
“সে কি কথা! আপনার সঙ্গে ভ্রমণ করা ত আমারই সৌভাগ্যের কথা। বেশ ত, আমরা একত্রেই ইউরোপে যাব।”
ফিক্সের উদ্দেশ্য সফল হইল।
তাঁহারা মণ্টোগুমরী স্ট্রীট্ দিয়া গমন করিতেছিলেন। সম্মুখেই দেখিলেন বিপুল জনতা। সে জনস্রোত ভেদ করিয়া সম্মুখে অগ্রসর হওয়া অসম্ভব। তথায় কেহ বা চীৎকার করিতেছে, কেহ বা প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড মুদ্রিত বিজ্ঞাপন লইয়া ছুটাছুটি করিতেছে। কোথাও নিশান উড়িতেছে, কোন স্থানে বা শতকণ্ঠে জয়ধ্বনি নিনাদিত হইতেছে! কেহ বলিতেছে “জয় কামের্ফিল্ড”, কেহ বা বলিতেছে “মডিবয়ের জয় হোক্।”