জুতা চারিদিকে ছুটিতে লাগিল! অবিরাম মুষ্টির আঘাত চলিতে আরম্ভ হইল! রিভল্ভারের শব্দও যে কর্ণে না আসিতেছিল তাহা নহে। মিঃ ফগ সঙ্গিগণ সহ যে স্থানে ছিলেন, একদল নাগরিক মারামারি করিতে করিতে সেই দিকে অগ্রসর হইল।
গোয়েন্দা কহিলেন,—“চলুন এখান থেকেও সরা যাক্। যদি এদের মধ্যে ইংলণ্ডের কোনো কথা হয় আর আমাদের ইংরাজ বলে’ চিন্তে পারে, তা’ হ’লে দুই এক ঘা আমাদের পিঠেও পড়তে পারে।”
ফিলিয়াস্ ফগ কেবল বলিতে যাইতেছিলেন, “একজন ইংরাজ কি—” তাঁহার মুখের কথা মুখেই থাকিল। গণ্ডগোল এতই বৃদ্ধি পাইল যে কে কাহার কথা শুনিবে। নাগরিকগণ সমুদ্রগর্জ্জনের ন্যায় গর্জ্জন করিতে লাগিল। মুষ্টিপ্রহারের ত বিরামই ছিল না! একজন বলিষ্ঠ পুরুষ মিঃ ফগের মস্তক লক্ষ্য করিয়া ভীম বেগে যষ্টি উঠাইল। যদি গোয়েন্দা ফিক্স আপনার দেহে সে আঘাত না লইতেন, হয় ত ফিলিয়াস্ ফগ বিশেষরূপে আহত হইতেন। যষ্টির আঘাতে মিঃ ফিক্সের টুপী চূর্ণ হইয়া গেল।
ফগ ঘৃণাভরে কহিলেন,—“ওরে নীচাশয় ইয়াঙ্কি!”
রক্তরাঙ্গা শ্মশ্রুবিশিষ্ট আমেরিকান উত্তর দিল, “রে ইংরাজ পশু! মনে থাকে যেন, আবার আমাদের দেখা হবে!”
“আচ্ছা বেশ—যখন ইচ্ছা।”
“তোমার নাম কি?”
“ফিলিয়াস্ ফগ। তোমার?”
“কর্ণেল ষ্ট্যাম্প প্রক্টর।”
উন্মত্ত নাগরিকগণ কাহারো জন্য অপেক্ষা করিতেছিল না। ফিক্স গোয়েন্দা তাহাদিগের ধাক্কায় ভূশয্যা গ্রহণ করিলেন! তাহাকে মথিত