কুলি হাসিয়া কহিল, “না—না। বাপ্রে সে কি আর একটা সহজ কথা! এখানে একজন বিচারক মনোনীত হচ্ছিলেন।”
আর অধিক কথা বলিবার সময় ছিল না। ট্রেণ ছাড়িল।
নিউইয়র্ক হইতে সান্ফ্রান্সিস্কো পর্য্যন্ত যে রেলপথ কত বন কত প্রান্তর কত শৈলশ্রেণী অতিক্রম করিয়া, শৈলগুহা ভেদ করিয়া নির্ম্মিত হইয়াছিল, তাহার দৈর্ঘ্য ৩৭৮৬ মাইল। এই সুদীর্ঘ পথ গমন করিতে এককালে অন্ততঃ ছয় মাস লাগিত। সেই ছয় মাসের পথ এখন এক সপ্তাহে দাঁড়াইয়াছে।
যে গাড়ীতে সঙ্গিগণ সহ মিঃ ফগ প্রবেশ করিলেন, তাহা একখানি দীর্ঘ ওম্নিবস্ গাড়ী। গাড়ীর ভিতর আর অন্য কোন কক্ষ ছিল না। উভয় পার্শ্বে যাত্রীদিগের বসিবার ব্যবস্থা এবং মধ্যস্থল দিয়া গমনাগমনের পথ। সেই পথেই চলন্ত ট্রেণেও এক গাড়ী হইতে অন্য গাড়ীতে যাতায়াত করা যাইত। দুইখানি গাড়ীর মধ্যবর্তী স্থান অতি অল্পই ছিল। ট্রেণেই বসিবার কক্ষ, চুরুট খাইবার কামরা, আহারের কক্ষ প্রভৃতি সমস্তই ছিল। পুস্তক পত্রিকা ভোজ্য পেয় প্রভৃতি ট্রেণে কিছুরই অভাব ছিল না। সঙ্গে সঙ্গে একটা ক্ষুদ্র মুদ্রাযন্ত্র পর্য্যন্ত চলিয়াছিল। সেই মুদ্রাযন্ত্র হইতে সংবাদপত্রও প্রচারিত হইত!
ট্রেণের বসিবার আসনগুলি এইরূপ কৌশলে প্রস্তুত ছিল যে, তাহাদের পশ্চাতের অংশগুলি খুলিয়া দিলেই চমৎকার শয্যা বাহির হইত। সেই শয্যাগুলি পরিচ্ছন্ন ও কোমল আস্তরণে আচ্ছাদিত। তাহার উপর কোমল উপাধান! কেহ কাহাকেও দেখিতে না পায় সেই জন্য আবার প্রত্যেক শয্যার সঙ্গেই পর্দ্দার ব্যবস্থাও ছিল। যে গাড়ীতে যতগুলি শয্যা, সেই গাড়ীতে তাহার অধিক যাত্রী থাকিবার রীতি ছিল না। এই শয্যা রচনা করিবার এবং রচিত শয্যা খুলিয়া দিবার জন্য স্বতন্ত্র