জিয়েনও গম্ভীর হইয়া বলিল—“তিনি যদিও একজন কর্ণেল, কিন্তু আমার সঙ্গেও তাঁর অল্প-বিস্তর হিসাব-নিকাশ আছে!”
রাণী আউদা শুধু এই কথায় তাঁহার হৃদয়কে শান্ত করিতে পারিলেন না। তিনি কহিলেন,— “মিঃ ফিক্স, আপনি কি জানেন না যে মিঃ ফগ আর কা’কেও তাঁর কলহ ঘাড়ে নিতে দিবেন না। তিনি ত বলেছেন, যে তাঁকে অপমান করেছে তাকে খুঁজে নিতে যদি আবার আমেরিকায় আসতে হয়, তা’ হ’লেও তিনি আসবেন! যদি তাঁর সঙ্গে কর্ণেলের এখানেই দেখা হয়, তা’ হ’লে না জানি কি একটা বিষম কাণ্ড ঘটবে! উভয়ের যাতে দেখা না হয়, আপনারা তাই করুন।”
মিঃ ফিক্স বলিলেন,—“আপনার কথাই ঠিক; দেখা হলেই সব পণ্ড হ’বে। মিঃ ফগ জয়ী হ’তে পারুন আর নাই পারুন, তাঁর দেরি হ’য়ে যাবে। তা হলেই—”
কটাক্ষপাত করিয়া জিয়েন কহিল, “তা’ হ’লেই সংস্কার-সমিতির একটা মস্ত সুবিধা জুটে গেল আর কি! নিউইয়র্ক যেতে এখনো আমাদের ৪ দিন। যদি মিঃ ফা এর মধ্যে গাড়ী ছেড়ে না নামেন, তা’ হ’লেই আর কর্ণেলের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হবে না। যা হোক্, যেমন করে পারা যায়, তাঁদের দেখা সাক্ষাৎটা বন্ধ করতেই হ’বে।”
মিঃ ফগের নিদ্রাভঙ্গ হইল দেখিয়া তাঁহারা নীরব হইলেন।
নিতান্ত মৃদু কণ্ঠে জিয়েন গোয়েন্দা ফিক্সকে কহিল,—“আপনি কি সত্যই মিঃ ফগের জন্য অস্ত্র ধরতে প্রস্তুত আছেন?”
“তাঁ’কে জীবিত অবস্থায় ইংলণ্ডে ফিরে নিয়ে যেতে যা’ কিছু সম্ভব আমি তাই করবো।”
গোয়েন্দার কথা শুনিয়া জিয়েনের আপাদমস্তক কম্পিত হইয়া উঠিল। কিন্তু মিঃ ফগের সাধুতার উপর তখনো তাহার অটল বিশ্বাস ছিল।