মিঃ ফগ যাহাতে গাড়ী হইতে না নামেন, তাহারই ব্যবস্থা করিবার জন্য গোয়েন্দা তাঁহাকে বলিলেন, “সময়টা যেন আর যাচ্ছে না।”
“একেবারে যে যাচ্ছে না, তা নয়, যাচ্ছে বৈ কি।”
“কিন্তু বড় ধীরে ধীরে!”
“জাহাজে ত আপনি হুইষ্ট খেলে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন।”
“জাহাজে সে সুবিধা ছিল বটে। এখানে তাসও নাই, খেলার সঙ্গীও নাই।”
“তাস ত এখনই আনতে পারা যায়। ট্রেণেই কিনতে পাওয়া যাবে। আর খেলার সঙ্গী? যদি রাণী আউদা খেলেন―”
রাণী কহিলেন, “আমি অল্প অল্প জানি। হুইষ্ট খেলা ইংরাজি শিক্ষার একটা অঙ্গ বলে’ বাবা আমাকে শিখিয়েছিলেন।”
“আমিও একটু খেলতে পারি।”
আনন্দিত হইয়া মিঃ ফগ কহিলেন,―“বেশ ত।”
জিয়েন কাল বিলম্ব না করিয়া তাস ক্রয় করিয়া আনিল।
ট্রেণ নির্ব্বিবাদে চলিতে লাগিল। মিঃ ফগ নিশ্চিন্তে হুইষ্ট খেলিতে লাগিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ট্রেন থামিয়া গেল। মিঃ ফগের সে দিকে বিশেষ দৃষ্টি ছিল না। তিনি হইষ্ট খেলাতেই বেশী মন দিয়াছিলেন।
জিয়েনের বিশেষ কোনো কার্যা ছিল না। ট্রেণ কেন থামিল, তাহার কারণ অনুসন্ধানের জন্য সে নামিল। নামিরাই দেখিল আরও অনেক যাত্রী ট্রেণের গার্ডকে ঘিরিয়া ধরিয়াছে এবং নানা প্রশ্ন করিতেছে। কর্ণেল প্রক্টরই সেই প্রশ্নকর্তাদিগের অগ্রণী ছিলেন।
মেডিসিন্ বো নামক ষ্টেশনের ষ্টেশনমাষ্টার একটা লোক পাঠাইয়া সংবাদ দিয়াছিলেন যে, সম্মুখের সেতু নিরাপদ নহে। উহার উপর দিয়া ট্রেণ চলিতে পারিবে না। এই সংবাদ পাইয়াই গার্ড গাড়ী থামাইয়া-