ছিলেন। যে স্থানে ট্রেন থামিয়াছিল, তথা হইতে একমাইল দূরেই সেই সেতুটী অবস্থিত। সেতুর তলদেশ দিয়া একটী পার্ব্বত্য-তরঙ্গিণী ভীম বেগে ছুটিয়া চলিতেছিল। জানা গেল সেতুর কয়েকটা নির্ভরস্তম্ভ ভাঙ্গিয়া গিয়াছিল।
সংবাদ শুনিয়া জিয়েন হতবুদ্ধি হইল। এরূপ দুঃসংবাদ মিঃ ফগের নিকট নিবেদন করিতেও তাহার সাহস হইল না। সে প্রস্তরগঠিতবৎ থাকিয়া প্রায় রুদ্ধ নিশ্বাসে আরোহীদিগের আলোচনা শুনিতে লাগিল।
কর্ণেল বলিলেন “এত ভারি মজার কথা দেখ্ছি। আমরা কি তবে এই বরফের মধ্যে অনন্তকাল দাঁড়িয়ে থাক্বো? ট্রেণ কি আর কিছুতেই যেতে পারবে না?” উত্তরে গার্ড কহিলেন, “না। আর একখানা ট্রেণের জন্য আমি ওমাহা স্টেশনে তারে খবর দিয়াছি। কিন্তু ছ’ ঘণ্টার আগে সে গাড়ী মেডিসিন বা ষ্টেশনে আস্তে পারবে না।”
জিয়েন ভীতি-বিহ্বল চিত্তে কহিল “ছয় ঘণ্টা!” গার্ড কহিলেন, “এখান থেকে হেঁটে মেডিসিন বো-তে যেতেও প্রায় ছ’ঘণ্টাই লাগবে।”
একজন যাত্রী কহিল, “অত সময় লাগবে কেন? এক মাইল পথ বৈত নয়!”
“এক মাইল বটে, কিন্তু নদীটা পার হ’তে হ’বে ত?” কর্ণেল কহিলেন, “কেন, নৌকায় পার হওয়া যাবে। নৌকা মিলিবে না?”
“নৌকায় পার হওয়া এখন অসম্ভব। পাহাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। নদী এত ফুলে উঠেছে যে নৌকার সাধ্য নাই সাঁকোর কাছে পার হয়! পার হ’বার একটাই যায়গা আছে, সেও ১০ মাইল দূরে!”
যাত্রীদিগের মধ্যে তখন একটা বিষম গণ্ডগোল উপস্থিত হইল। মিঃ ফগ যদি খেলায় মত্ত না থাকিতেন, তাহা হইলে তিনিও নিশ্চয় গাড়ী হইতে অবতরণ করিতেন।