ড্রাইভার কহিল, “একটা উপায় আছে—চেষ্টা ক’রে দেখ্লে হয়।” সকলেই সমস্বরে কহিল “কি―কি? সাঁকো পার হ’তে পারা যাবে ত?”
“হাঁ।”
“ট্রেণ খানা সমেত না কি?”
“হাঁ, তা’ বৈ কি।”
গার্ড কহিলেন, “পাগলের কথা! সাঁকো যে ভেঙ্গে গেছে!”
“তা’ ভাঙ্গলোই বা। ভেঙ্গেছে।—প’ড়ে ত যায়নি?”
“না, তা যায়নি বটে, তবে গোটা দুই থাম্ ভেঙ্গে গেছে!”
“তাতে কি? আমি যদি খুব বেগে গাড়ী চালিয়ে দি’—তা’ হলে পলক ফেলতে না ফেলতে হয় ত ট্রেণ নিয়েই বেরিয়ে যেতে পারবো।”
জিয়েন মনে মনে ভাবিল, “লোকটা বলে কি!” কিন্তু কথাটা কতকগুলি যাত্রীর মনে ধরিল। কর্ণেল প্রক্টর সিদ্ধান্ত করিলেন, ‘এ আর একটা বেশী কথা কি। এ ত হতেই পারে।’ ড্রাইভারকে উৎসাহিত করিবার জন্য তিনি এইরূপ নানাবিধ দুর্ঘটনার উল্লেখ করিয়া বলিলেন, “এত তবুও সাঁকোটা দাঁড়িয়ে আছে—ভেঙ্গে পড়েনি। আমি একজন ড্রাইভারকে জানি, সে বিনা সাঁকোতেই একবার ছোট একটা নদী পার ক’রে ট্রেণ নিয়ে গিয়েছিল। সে যে তখন কি ভয়ানক বেগে গাড়ী চালিয়েছিল তা আর বলা যায় না! সমস্ত ট্রেণখানা রেল থেকে যেন লাফিয়ে উঠে নদী পার হয়ে গেল! আমাদের ট্রেণও সাঁকোর উপর দিয়ে যাবে!”
যাহা হউক, কিছুক্ষণ এইরূপ কথাবার্ত্তার পর অনেকগুলি যাত্রী ড্রাইভারের পক্ষ অবলম্বন করিল। একজন বলিল, “আমরা যে নির্ব্বিঘ্নে যেতে পারবো তার শতকরা ৫০ বার সম্ভাবনা।”
আর একজন অমনি বলিয়া উঠিল, “৫০ বার কি হে―৬০ বার।”