বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৫৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪৮
৮০ দিনে ভূ-প্রদক্ষিণ

 তৃতীয় ব্যক্তি উভয়কে সরাইয়া একটু অগ্রসর হইয়া কহিল, “হুঁ ৬০ বার! আরে ৮০ ৯০ বারই বল না।”

 ইহাদের কথাবার্ত্তা শুনিয়া জিয়েনের বুদ্ধি বিলুপ্ত হইয়া গেল। সে কেবলই ভাবিতে লাগিল, ‘এরা বলে কি!’ অন্য একটা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ উপায় তাহার মনে আসিয়া উদয় হইল। সে একজন সহযাত্রীকে কহিল, “ড্রাইভারের ব্যবস্থাটা কিছু বিপজ্জনক ব’লে মনে হয়। কিন্তু—”

 প্রত্যুত্তরে যাত্রীটী বলিল, “বিপজ্জনক কি? পার হবার ত শতকরা ৮০ বার সম্ভাবনা দেখাই গেল।” “তা আমি জানি, কিন্তু আমি একটা উপায়—” জিয়েনের মুখের কথা মুখেই থাকিল। তাহাকে বাধা দিয়া সেই আমেরিকান যাত্রী কহিল, “শুধু উপায় ঠাওরালেই ত কাজ হ’বে না। ড্রাইভার নিজেই বলছে যে যেতে পারবে―”

 “তা’ পারতে পারে। কিন্তু আমি যা’ বলছিলাম সেইটেই বোধ হয় সমীচিন হ’তো—”

 “সমীচিন! কি সমীচিন!” কর্ণেল ক্রুদ্ধ হইয়া কহিলেন “সমীচিন আবার কি! তুমি কি বুঝতে পারছ না যে, আমরা পূরো দমে চালিয়ে যাব। শুনছো হে? পূরো দমে—পূরো দমে—”

 জিয়েন কহিল “হাঁ শুনছি বই কি। যা হোক সমীচিন শব্দটায় যদি আপনাদের অমত থাকে, তা হলে সেটা না বলে বরং স্বাভাবিক—”

 চতুর্দ্দিক্ হইতে যাত্রীরা কোলাহল করিয়া উঠিল, “লোকটা কে হে―ও বলে কি! স্বাভাবিকের ও কি জানে!”

 উত্তেজিত আরোহিবৃন্দ জিয়েনকে আর কথাই কহিতে দিল না। কর্ণেল প্রক্টর বিদ্রূপ করিয়া কহিলেন, “কি হে ছোকরা, ভয় পেয়েছ না কি?”