“ভয়! ভয় কাকে বলে জিয়েন তা’ জানে না”
গার্ড আদেশ দিলেন, “উঠুন—উঠুন—সকলে গাড়ীতে উঠুন। গাড়ী এখনই ছাড়বে।”
জিয়েন অনুচ্চস্বরে কহিল, “তা ওঠা যাচ্ছে, কিন্তু যাত্রীরা হেঁটে সাঁকো পার হ’লে পর গাড়ীখানা সাঁকোর উপর তুললে ভাল হ’তো।”
জিয়েনের যুক্তি কেহ শুনিল না। যদি কেহ শুনিত তাহা হইলেও উহা মানিতে চাহিত কি না সন্দেহ।
সকলে গাড়ীতে উঠিল। মিঃ ফগ তখনো নিবিষ্টচিত্তে হুইষ্ট খেলিতেছিলেন। ড্রাইভার বংশীধ্বনি করিয়া ট্রেণখানি এক মাইল পশ্চাতে লইয়া গেল এবং তথা হইতে ভীম বেগে সম্মুখে অগ্রসর হইল। সে বেগের পরিমাণ করিতে হইলে বলিতে হয় উহা ঘণ্টায় ১০০ মাইলের কম ছিল না! গাড়ীগুলি যেন রেললাইন স্পর্শ না করিয়াই ছুটিল!
বিদ্যুৎ যেমন এক নিমেষে আকাশের এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পর্য্যন্ত স্পর্শ করে, ট্রেণখানিও তেমনি নিমেষ মধ্যে সেতু পার হইয়া গেল—যেন সেই পার্ব্বত্য তরঙ্গিণীর এক পার হইতে অপর পারে লম্ফ প্রদান করিল! পর মুহূর্ত্তেই একটা ভীষণ শব্দ শ্রুতিগোচর হইল। সকলে চাহিয়া দেখিল সেতুটী সহস্রখণ্ডে বিভক্ত হইয়া নদীগর্ভে নিমজ্জিত হইতেছে!