বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৬৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৫৪
৮০ দিনে ভূ-প্রদক্ষিণ

 পরমুহূর্ত্তেই পার্শ্বের গাড়ীর দ্বার খুলিয়া কর্ণেল প্রক্টর বাহির হইলেন। একজন আমেরিকান তাঁহার দোসর হইয়াছিল। তাঁহারা যখন ট্রেণ হইতে অবতরণ করেন তখন গার্ড কহিলেন—

 “নামবেন না মশায়।”

 “কেন?”

 “গাড়ী ২০ মিনিট পিছিয়ে পড়েছে। আমি এখানে আর দাঁড়াব না।”

 মিঃ ফগকে দেখাইয়া দিয়া কর্ণেল কহিলেন, “আমি এঁর সঙ্গে একটু দ্বৈরথ-যুদ্ধ করবো স্থির করেছি।” গার্ড কহিলেন, “কি করবো, বড় দুঃখিত হলেম। ওই শুনুন গাড়ীর ঘণ্টা হ’লো।”

 ট্রেণ আর দাঁড়াইল না।

 গার্ড বিনয়ের সহিত কহিলেন, “আমার অপরাধ মার্জ্জনা করবেন। অন্যদিন হ’লে আপনাদের জন্য আমি একটু অপেক্ষা করতে পারতেম যদি আপনারা একান্তই যুদ্ধ করেন, গাড়ী চল্‌তে চল্‌তেও তা হ’তে পারে।”

 মিঃ ফগকে একটু বিদ্রূপ করিয়া কর্ণেল বলিলেন, “বোধ হয় ওঁর তাতে সুবিধা হ’বে না!” ফিলিয়াস্‌ ফগ উত্তব করিলেন, “আমার কোন অসুবিধাই হবে না! আপনার সুবিধা হ’লেই হ’লো।” গার্ড তখন তাঁহাদিগকে সঙ্গে লইয়া ট্রেনের পশ্চাৎ ভাগে গমন করিলেন। শেষ গাড়ীতে ১০-১২ জন মাত্র যাত্রী ছিল। গার্ড তাঁহাদিগকে বলিলেন, “এই দু’জন ভদ্রলোকের একটু হিসাব-নিকাশ আছে। আপনারা যদি এঁদের একটু জায়গা দিতে পারেন তা’ হলে ভাল হয়।”

 তাঁহাদিগকে অনুগৃহীত করিবার জন্য যাত্রীরা নামিয়া গেল।

 গাড়ীখানি ৫০ ফিট দীর্ঘ, সুতরাং বন্দুক লইয়া দ্বৈরথ-সমর করিবার