সঙ্গিগণ ইতিপূর্ব্বেই গাড়ীর ভিতর প্রবেশ করিয়াছিল। যাত্রীদিগের সহিত তাহাদিগের ভীষণ যুদ্ধ আরম্ভ হইল। রিভলভার এবং বন্দুকের শব্দে কর্ণে তালা ধরিল। তরবারির আঘাতে হু হু করিয়া রুধির-স্রোত ছুটিল। কতজন সিয়োক্স যে সেই চলন্ত ট্রেণের নিম্নে পতিত হইয়া প্রাণ হারাইল তাহা কে বলিতে পারে! যাত্রীদিগের মধ্যে অনেকেই আহত হইয়া গাড়ীর ভিতর পড়িয়া রহিল। রাণী আউদাও বীর-নারীর ন্যায় আত্মরক্ষা করিলেন। তাঁহার রিভলভারের আঘাতে ২০।২৫ জন দস্যুর জীবলীলা ফুরাইল।
ট্রেণ যেন উল্কার মত ছুটতেছিল। গার্ড বীরের ন্যায় যুঝিতে যুঝিতে মিঃ ফগকে কহিলেন, “যদি ট্রেণ না থামাইতে পারেন, তা’ হ’লে একজনও বাঁচবে না। ফোর্টকিয়ার্ণি ষ্টেশন আর মাত্র ৫।৬ মাইল দূরে। গাড়ী যদি ষ্টেশন ছেড়ে যায়, তা’ হ’লে দস্যুদের কাছে আত্মসমর্পণ করা ভিন্ন উপায় থাকবে না। তারাই তা হ’লে ট্রেণের কর্ত্তা হবে। পরের ষ্টেশন অনেক—”
গার্ড আরো কি বলিতে যাইতেছিলেন, কিন্তু দস্যুর একটী গুলি আসিয়া তাঁহার বক্ষ ভেদ করিল। তিনি অবিলম্বে মৃত্যুমুখে পতিত হইলেন!
মিঃ ফগ এতক্ষণ বীরদর্পে যুদ্ধ করিতেছিলেন। গার্ডের কথা শুনিয়াই যুদ্ধে ক্ষান্ত দিয়া ট্রেণ থামাইবার জন্য অগ্রসর হইলেন। এঞ্জিনে গমনের পথ যে শত্রু কর্ত্তৃক অবরুদ্ধ হইয়াছিল, তাহা তিনি দেখিয়াও গ্রাহ্য করিলেন না। জিয়েন তাঁহার পার্শ্বে থাকিয়াই যুদ্ধ করতেছিল। সে চীৎকার করিয়া কহিল, “আপনি যাবেন না―যাবেন না। এ একটা সামান্য কাজ―ভৃত্যেরই উপযুক্ত।”
মিঃ ফগ তাহাকে নিবারণ করিতে না করিতেই সে জানালা দিয়া