রাণী আউদা কাতর দৃষ্টিতে ফগের দিকে চাহিলেন। সে দৃষ্টিত্ব অর্থ বুঝিতে ফগের মুহূর্ত্ত মাত্র বিলম্ব হইল না। তিনিও এতক্ষণ নিজ কর্ত্তব্যপথ স্থির করিতেছিলেন। রাণী আউদার দিকে চাহিয়া কহিলেন, “জীবিত হোক বা মৃত হোক আমি জিয়েনকে খুঁজিয়া বাহির করিবই করিব।”
রাণী আউদার হৃদয় কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ হইয়া গেল। তিনি আবেগভরে মিঃ ফগের করমর্দ্দন করিলেন। তাঁহার বিন্দু বিন্দু নয়নবারি সুগোল মুক্তার ন্যায় মিঃ ফগের হস্তের উপর পতিত হইতে লাগিল।
ফিলিয়াস্ ফগ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করিলেন, যে প্রকারেই হউক ভৃত্যের সন্ধান না করিয়া যাইবেন না। তাহাতে যদি সর্ব্বস্বও যায়, তিনি তাহাও স্বীকার করিবেন। তিনি বেশ জানিতেন যে একদিন মাত্র বিলম্ব ঘটিলেই আর নিউইয়র্কে যাইয়া জাহাজ পাইবেন না। নিউইয়র্কে জাহাজ ধরিতে না পারিলে বাজীতে তাহার পরাজয় সুনিশ্চিত। কিন্তু তিনি কখনো কর্ত্তব্যপালনে পরাঙ্মুখ ছিলেন না। ভৃত্যের অনুসন্ধান, তিনি বর্ত্তমান অবস্থায় তাঁহার প্রধান কর্ত্তব্য বলিয়া মনে করিলেন।
ফোর্টকিয়ার্ণি একটী ক্ষুদ্র দুর্গ। দুর্গের সৈন্যগণ বন্দুকের শব্দ ও কোলাহল শুনিয়া ইতিপূর্ব্বেই ষ্টেশনে আসিয়াছিল। তাহাদিগের অধিনায়ককে সম্বোধন করিয়া মিঃ ফগ বলিলেন, “মহাশয় তিন জন যাত্রীর কোন সন্ধানই নাই!”
“তারা মরে গেছে না কি?”
“মরুক আর দস্যুর হস্তে বন্দীই হোক তাদের সন্ধান করতেই হবে। আপনি কি সৈন্য নিয়ে দস্যুদের অনুসরণ করতে চান?”
সেনাপতি কহিলেন, “সে বড় বিষম কথা! তারা যে পালাতে পালাতে কোথায় যাবে তার ঠিকানা কি? আমি কি আর দুর্গটী