ঘটিল তখন আর তিনি গেলেন না। ভাবিলেন, দেখা যাক্, আবার ত ট্রেণ পাওয়া যাইবে।
যেমন তুষারপাত হইতেছিল, তেমনি হইতে লাগিল। যেমন দারুণ শীতল বাতাস বহিতেছিল, তেমনি বহিতে লাগিল। সন্ধ্যা হইল; সন্ধ্যাসমাগমে সেই ভীষণ নীরবতা আরো অধিক ভীষণ হইয়া উঠিল! রাণী আউদা কত রকম আশঙ্কা করিতে লাগিলেন। তিনি মধ্যে মধ্যেই বিশ্রামকক্ষের বাহিরে আসিয়া প্ল্যাটফরমের প্রান্তসীমা পর্য্যন্ত অগ্রসর হইয়া সঙ্গীদিগের জন্য ব্যাকুল আগ্রহে অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। সেই জনহীন প্রান্তর নীরব—অবিরাম তুষারপাতের জন্য দৃষ্টিও অধিক দূর চলিতেছিল না। এইরূপে ঘর এবং বাহির করিতে করিতেই রাণী আউদার রজনী প্রভাত হইয়া গেল। প্রভাতে আকাশের অবস্থা কথঞ্চিৎ পরিবর্ত্তিত হইল বটে, কিন্তু মিঃ ফগের কোন সংবাদ পাওয়া গেল না। রাণী আউদা এবং মিঃ ফিক্স উভয়েই অত্যন্ত ব্যস্ত হইলেন। সৈনিকদিগের জন্য সেনাপতি ক্রমশঃই চিন্তিত হইতে লাগিলেন। ভাবিলেন, তাহার ত গিয়াছেই—তাহাদের রক্ষার জন্য আর সৈন্য প্রেরণ করা বাতুলতা মাত্র!
ক্রমে বেলা অধিক হইতে লাগিল। সেনাপতির চিন্তাও বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। অবশেষে তিনি দুর্গের অবশিষ্ট সৈন্য পাঠাইয়া দিতেই সঙ্কল্প করিলেন। সৈনগণ প্রস্তুত হইল।
সহসা দূরে বন্দুকের শব্দ পাওয়া গেল। সৈন্যগণ হর্ষোৎফুল্ল হইয়া বন্ধুদিগের সহিত মিলিত হইবার জন্য ক্ষিপ্র পদে অগ্রসর হইল।
অল্পক্ষণ মধ্যেই মিঃ ফগ, জিয়েন এবং অন্যান্য সকলে ষ্টেশনে আসিয়া উপনীত হইলেন।
কিয়ার্ণি ষ্টেশন হইতে ১০ মাইল দূরে দস্যুদিগের সহিত তাঁহাদিগের