“না না হেঁটে নয়। যখন বরফ পড়েছে তখন স্লেজ গাড়ী বেশ চলবে। হাওয়াও আছে, পাল তুলে’ দিলে রেলের মত যাবে।
“এখানে কি স্লেজ পাওয়া যাবে?”
“একটা লোক তার স্লেজ ভাড়া দিতে পারে বলছিল।”
ষ্টেশনের নিকটে স্লেজওয়ালার কুটীর। মিঃ ফগ স্লেজ দেখিতে গেলেন। গাড়ীখানি মন্দ নহে। ৫।৬ জন লোক অনায়াসে আরোহণ করিতে পারে। গাড়ীর ঠিক মধ্যস্থলে একটী উচ্চ গুণবৃক্ষ লৌহতারে আবদ্ধ হইয়া দণ্ডায়মান ছিল। সেই গুণবৃক্ষের সঙ্গে একটী সুবৃহৎ পাল ঝুলিতেছিল। গাড়ীর একটী হাইলও ছিল। শীতসমাগমে যখন তুষারপাতে রেলপথ ডুবিরা যায়, তখন লোকে স্লেজে আরোহণ করিয়া এক ষ্টেশন হইতে অন্য ষ্টেশনে গমনাগমন করে।
স্লেজওয়ালা কহিল, “পশ্চিম থেকে বাতাসে বেশ জোর দিয়াছে। বরফও খুব শক্ত হয়ে জমে গেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমরা ওমাহা ষ্টেশনে যেতে পারবো। ওমাহা থেকে নিউইয়র্ক এবং সিকাগো যাবার যথেষ্ট ট্রেণ পাওয়া যায়।”
তখন বেলা ৮টা। মিঃ ফগ অবিলম্বে যাত্রা করিবার ব্যবস্থা করিলেন। তাঁহার ইচ্ছা ছিল রাণী আউদা সেই দারুণ শীতে তাঁহার সহিত স্লেজে না যাইয়া ট্রেণে জিয়েনের সহিত ইংলণ্ডে গমন করেন। কিন্তু আউদা তাহাতে সম্মত না হওয়ায় সকলেই স্লেজে উঠিয়া বসিলেন।
স্লেজওয়ালা পাল টানিয়া দিল। প্রবল বাতাসে পাল ফুলিয়া উঠিল, স্লেজ দুলিতে লাগিল। দেখিতে না দেখিতে তাঁহার সেই মসৃণ অথচ কঠিন বরফরাশির উপর দিয়া তীরবেগে ছুটিতে লাগিলেন। হিসাব করিয়া দেখা গেল স্লেজ ঘণ্টায় ৪০ মাইল যাইতেছে।
কিয়ার্ণি ষ্টেশন হইতে ওমাহা ষ্টেশন সরল ভাবে ২০০ মাইলের অধিক