নহে। কোন বিঘ্ন না ঘটিলে তাঁহারা বেলা ১টার মধ্যেই ওমাহা যাইতে পারিবেন বলিয়া অনুমান করিলেন।
নিদারুণ শীত। শীতে তাঁহাদিগের শোণিত পর্য্যন্ত যেন জমিয়া যাইতে লাগিল। কাহারো বাক্যস্ফূর্ত্তি হইল না। সেই মুক্ত প্রান্তরমধ্যে সেই অনন্ত বিস্তৃত তুষাররাশির উপর দিয়া, সেই কলঙ্ক-হীন কঠিন শুভ্র তরঙ্গবিহীন দৃঢ় সাগরের উপর গড়াইতে গড়াইতে—নদীর মধ্যে যেমন পালের নৌকা চলে—স্লেজও তেমনি অনায়াসে চলিতে লাগিল। স্লেজওয়ালা সুদক্ষ ছিল। সে দৃঢ় মুষ্টিতে হাইল ধরিয়া সরল পথে স্লেজ চালাইয়া দিল। স্লেজ যেন উড়িয়া চলিল। যে সকল লৌহরজ্জু দ্বারা গুণবৃক্ষ আবদ্ধ ছিল, বাতাস লাগিয়া তাহারা কাঁপিতে লাগিল। সেই কম্পনে এক অশ্রান্ত করুণ সুর বাজিয়া উঠিয়া নীরব শীতল শুভ্র কঠিন তুষারপ্রান্তরকে ধ্বনিত করিয়া তুলিল।
সমস্ত পৃথিবী যেন তুষারমগ্ন হইয়াছিল। যে সকল পার্ব্বত্যতরঙ্গিণী সেই প্রান্তর বিধৌত করিয়া ফুলিয়া ফাঁপিয়া নৃত্য করিয়া চলিত, তাহারা এখন তুষার রাশিতে পরিণত হইয়াছিল। স্লেজ অনায়াসে সেই সকল নদী অতিক্রম করিয়া চলিতে লাগিল। কদাচিৎ কতকগুলি বন্য পক্ষী তাঁহাদের মস্তকের উপর দিয়া উড়িতে লাগিল। কোথাও বা কতকগুলি ক্ষুধিত নেকড়ে ব্যাঘ্র আহারের সন্ধানে স্লেজের পশ্চাৎ পশ্চাৎ ধাবমান হইতেছিল। জিয়েনের ইচ্ছা হইতেছিল অবিলম্বে গুলি করিবে। কিন্তু সে যখন শুনিল তাহাতেই বিপদের আশঙ্কা অধিক, ব্যাঘ্রগণ তাহা হইলে কিছুতেই আর প্রতিনিবৃত্ত হইবে না, তখন সে বন্দুক রাখিয়া নীরবে বসিয়া রহিল।
দ্বিপ্রহর কালে স্লেজওয়ালা পাল নামাইয়া কহিলেন, “ওই যে ওমাহা দেখা যায়।”