বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ—ভীষণ চুরি

অধ্যক্ষ গথিয়ার রাল্‌ফ, ইঁহারা সকলেই ধনকুবের ছিলেন। ইঁহাদের সহিতই ফিলিয়াস্ ফগের হুইষ্ট যুদ্ধ চলিত।

 চিমনির মধ্যে অবস্থিত প্রজ্বলিত অগ্নির চতুর্দ্দিকে বসিয়া ইঁহারা নানারূপ গল্প করিতে লাগিলেন। টমাস্ ফ্ল্যানাগেন কহিলেন, “মিঃ রাল্‌ফ, এই যে ডাকাতিটা হয়েছে, এর কিছু খবর হ’ল কি?”

 ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “আর খবর হবে! ব্যাঙ্কের টাকাগুলো গেল আর কি!”

 রাল্‌ফ কহিলেন, “আমার ত ভরসা হয় যে, চোর ধরা পড়বে। আমেরিকা, ইউরোপ, এসিয়া সকল দেশেই আমাদের গোয়েন্দা দারোগা আছে। প্রত্যেক বড় বড় বন্দরেই তারা সন্ধান নিচ্ছে। এদের ফাঁকি দিয়ে পালানো বড় সহজ নয়।”

 ষ্টুয়াট কহিলেন, “তা হ’লে দেখছি, চোরের চেহারা কেমন, তা আপনারা জানেন।”

 কথাটা শুনিরা রাল্‌ফ দৃঢ়স্বরে বলিলেন, “টাকাটা যে নিয়েছে, সে ত চোর নয়।”

 “সে কি! সাড়ে আট লক্ষ টাকার নোট নিয়ে যে সরে পড়্‌তে পারে, সেও চোর নয়!”

 “না, চোর নয়।”

 সলিভান বিদ্রূপ করিয়া কহিলেন, “না না, সে কেন চোর হ’তে যাবে? সে একজন খাঁটি কলির চেলা—বিশেষ কার্য্যপটু লোক!”

 তখন পত্র-পত্রিকার পর্ব্বত প্রমাণ প্রাচীরের অন্তরাল হইতে মস্তক উত্তোলন করিয়া ফিলিয়াস্ ফগ কহিলেন, “মর্নিং ক্রণিকেলে প’ড়ছিলেম যিনি নোটগুলো নিয়েছেন, তিনি না কি একজন ভদ্রলোক।”

 আলোচনা চলিতে লাগিল।