বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৮৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দশম পরিচ্ছেদ—বোমা ফাটিল না
১৭৫

নুতন অধ্যক্ষের সদ্ব্যবহারে ও অর্থে এতই প্রীত হইয়াছিল যে প্রাণপণে আপন আপন কর্ত্তব্য সম্পাদন করিতে লাগিল।

 জাহাজ অবাধে চলিতে লাগিল। হেন্‌রিয়েটা দ্রুতগামী বটে। ১৩ই পর্য্যন্ত কোনো বাধাবিঘ্ন ঘটিল না। সেই দিনই ঝড়ের লক্ষণ সকল দেখা গেল। রাত্রিতে এমন শীতল বাতাস বহিল যে, কাহার সাধ্য কক্ষের বাহিরে আইসে। কিন্তু নাবিকগণ তখনো কর্ত্তব্যপালন করিতেছিল―নূতন অধ্যক্ষ অম্লানবদনে আপনার নির্দ্দিষ্ট স্থানে থাকিয়া জাহাজ চালাইতেছিলেন।

 ঝড় উঠিল। আটলাণ্টিক মহাসাগরের ঝড় অতি প্রবল। মিঃ ফগ পাল নামাইলেন। হেন্‌রিয়েটা কাঁপিতে কাঁপিতে দুলিতে দুলিতে তরঙ্গের উপর গড়াইতে গড়াইতে নক্ষত্রবেগে ছুটিতে লাগিল। তিনি জাগজের গতি শিথিল করিলেন না। এক এক সময় মনে হইতে লাগিল, হেনরিয়েটা আর থাকিবে না! এই ডুবিল—এইবার নিশ্চয় ডুবিল!

 “চালাও চালাও—বাষ্পনলের মুখ যেমন খোলা আছে, তেমনি থাকুক—জাহাজের গতি যেন মন্দ না হয়।” নবীন অধ্যক্ষের নির্ভীক আদেশ ধ্বনিত হইল।

 মিঃ ফগ কিছুতেই জাহাজের গতি মন্দ করিলেন না। ভীমকায় শৈল প্রমাণ তরঙ্গগুলি জাহাজের ডেকের উপর আসিয়া পড়িতে লাগিল। ডেক-বিধৌত করিয়া নাবিক দিগকে সিক্ত করিয়া ডেকে যে সকল দ্রব্যাদি ছিল তৎসমুদায় ভাসাইয়া লইয়া তরঙ্গের উপর তরঙ্গ এক দিক্‌ হইতে অপর দিকে গড়াইয়া যাইতে লাগিল। নুতন পোতাধ্যক্ষের আদেশ, “চালাও—চালাও—জাহাজ যেন কোন মতে শিথিলগতি না হয়!”

 অদ্য ১৬ই ডিসেম্বর। অদ্য ৭৫ দিন পূর্ণ হইল। এখনো আটলাণ্টিক মহাসাগরের পথে অনেক দূর যাইতে হইবে। জিয়েন ভাবিতে লাগিল, যদি জাহাজের বাষ্প কমিয়া না যায়, তাহা হইলে হয়ত হেন্‌রিয়েটা