আটলাণ্টিক মহাসাগর অতিক্রম করিতে পারিবে। দুর্ভাগ্য মিঃ ফগের সঙ্গে সঙ্গেই ছিল। হেন্রিয়েটার কলের অধ্যক্ষ আসিয়া সংবাদ দিল,—“কয়লা ফুরাইয়া আসিয়াছে!”
মিঃ ফগ কহিলেন, “তুমি ঠিক জান?”
“হাঁ, ঠিক জানি। যেদিন থেকে আমরা জাহাজ ছেড়েছি, সেইদিন থেকেই সমানে আগুন রেখেছি। লিভারপুলে যাবার মত অত কয়লাও জাহাজে ছিল না। আমরা বোর্ভোঁ যাবার মত কয়লা নিয়েছিলাম।” ফগ নিশ্চিন্তভাবে আদেশ দিলেন, “আচ্ছা যাও—যতক্ষণ কয়লা চলে, পূরা দমে চালাও। আমি ভেবে দেখি কি করা যেতে পারে।”
এঞ্জিনিয়ার প্রস্থান করিল।
জিয়েন এই আকস্মিক বিপদের সংবাদে একান্ত বিচলিত হইল এবং সহানুভূতি-লাভের প্রত্যাশায় মিঃ ফিক্সের নিকট এ সংবাদ জ্ঞাপন করিল। ফিক্স কহিলেন, “জাহাজ যে লিভারপুল যাচ্ছে এ কথা কি তুমি বিশ্বাস কর?”
“করি।”
“তুমি একটা মস্ত বোকা দেখছি!”
১৮ই তারিখে এঞ্জিনিয়ার পুনরায় আসিয়া কহিল, “কয়লায় আর চলে না!” মিঃ ফগ তখনো একান্ত অবিচলিত। তিনি জিয়েনকে আদেশ কারলেন, “হেন্রিয়েটার বন্দী অধ্যক্ষকে এখানে আন।”
জিয়েন পোতাধ্যক্ষকে লইয়া আসিল। তিনি ক্ষুধিত ব্যাঘ্রের মত মিঃ ফগের নিকট আসিয়া উপস্থিত হইলেন। যেন একটা ভীষণ বোমা সহসা তথায় পতিত হইল, এখনই ফাটিয়া সর্ব্বনাশ ঘটাইবে!
নিকটে আসিয়াই অধ্যক্ষ বজ্র-গম্ভীর স্বরে মিঃ ফগকে জিজ্ঞাসা করিলেন—