“আমরা এখন কোথায় আছি?”
“লিভারপুল থেকে ৭৭০ মাইল দুরে।”
উত্তর শুনিয়াই অধ্যক্ষের আপাদ-মস্তক জ্বলিয়া উঠিল। তিনি গর্জ্জন করিয়া কহিলেন,—
“তবে রে জলদস্যু!”
“মশায়, আমি ত আগেই বলেছিলাম লিভারপুল চলুন।”
অধ্যক্ষ আরো ভীষণ কণ্ঠে কহিল,—
“দস্যু কোথাকার!”
মিঃ ফগ শান্তভাবে বলিলেন,—
“আপনার জাহাজখানা আমার কাছে বিক্রয় করুন।”
“কখনো না।”
“যদি বিক্রয় না করেন তা’ হ’লে আমি বাধ্য হয়েই জাহাজখানা পুড়িয়ে ফেলবো!”
“কি! আমার জাহাজ পোড়াবেন?”
“পোড়াব বই কি? অন্ততঃ উপরকার যা’ কিছু কাঠের জিনিষ আছে সবই পোড়াতে হবে। জাহাজের কয়লা ফুরিয়েছে! আমার ত যাওয়া চাই!”
অধ্যক্ষ পরুষকণ্ঠে কহিলেন, “আমার জাহাজ পোড়াবেন! জাহাজের দাম কত জানেন? নগদ একলাখ টাকা!
“এই নিন, আমি দেড় লাখ দিচ্ছি!” মিঃ ফগ অবিলম্বে কতকগুলি ব্যাঙ্কনোট কুপিত অধ্যক্ষের পকেটের মধ্যে ফেলিয়া দিলেন।
নগদ দেড় লক্ষ মুদ্রা! অধ্যক্ষের হৃদয়মধ্যে তরঙ্গ উঠিল। রোষ, ক্ষোভ, অসন্তোষ সমস্তই মুহূর্ত্তে ভাসিয়া গেল। তিনি দেখিলেন, হেন্রিয়েটার বয়স প্রায় বিংশবর্ষ অতিক্রম করিয়াছে। ইহার পরিবর্ত্তে যদি