এত অর্থ হস্তগত হয় তবে আর চিন্তা কি। অধ্যক্ষ সম্মত হইলেন কোমল কণ্ঠে কহিলেন,―
“খোলটা বোধ হয় আমারই থাকবে?”
“হাঁ। খোল এবং এঞ্জিন আপনার। কেমন রাজি ত?”
“রাজি।”
জিয়েন ও ফিক্স গোয়েন্দা অবাক্! কি ভয়ানক কথা! চক্ষের নিমেষে দেড় লক্ষ মুদ্রা উড়িয়া গেল—অথচ জাহাজের খোল এবং কল অধ্যক্ষেরই রহিল! গোয়েন্দার দৃঢ় বিশ্বাস হইল ইংলণ্ডের ব্যাঙ্ক হইতে নিশ্চয়ই সাড়ে আটলক্ষ টাকা চুরি হইয়াছে। মিঃ ফগই সেই দস্যু!
অধ্যক্ষ নোটগুলি গণনা করিয়া পকেটে রাখিলে পর মিঃ ফগ কহিলেন, “কাপ্তান! আমার কার্য্যে বিস্মিত হবেন না। যদি আমি ২১শে ডিসেম্বর লণ্ডনে পৌঁছিতে না পারি, তা হ’লে তিন লক্ষ মুদ্রার বাজি হারব। আপনি ত জানেন আমি নিউইয়র্কে লিভারপুলের জাহাজ ধরতে পারি নাই। আপনিও প্রথমে আমাকে লিভারপুল নিয়ে যেতে সম্মত হলেন না—”
বাধা দিয়া কাপ্তান বলিলেন, “আমি ত ভালই করেছিলাম। যদি বাধা না দিতাম তা হ’লে কি আর আজ দেড় লাখ টাকা পাই! তবে কি জানেন কাপ্তান—”
আমার নাম ফগ। তবে জাহাজখানা এখন আমার?”
“নিশ্চয়ই আপনার। ওর যত কাঠ-পাট আছে সবই আপনার।”
“উত্তম। অনুগ্রহ করে কাঠ গুলো সব কাটতে আরম্ভ করুন।”
জাহাজের শুষ্ক কাষ্ঠগুলি তখন কয়লার পরিবর্ত্তে ব্যবহৃত হইতে লাগিল। সেই দিনই হেন্রিয়েটার কামরাগুলি, ডেকের কতকাংশ এবং পশ্চাতের ডেক প্রভৃতি পুড়িয়া ভস্ম হইয়া গেল!