বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
৮০ দিনে ভূ-প্রদক্ষিণ

 তিন দিন পূর্ব্বেই ইংলণ্ডের ব্যাঙ্ক হইতে সার্দ্ধ অষ্টলক্ষ মুদ্রার নোট অপহৃত হইয়াছিল। এত অনায়াসে বুঝি আর কখনো টাকা চুরি হয় নাই। ব্যাঙ্কের অন্যতম অধ্যক্ষ মিঃ রাল্‌ফ সকলকে বুঝাইতে লাগিলেন, “এ চুরিতে খাজাঞ্চী বেচারার কোন দোষ নাই। সে কি ক’রবে? সে তখন মনোযোগ দিয়ে ব্যাঙ্কের একটা পাওনা ২৷৷৵৹ আনা খাতার জন্য ক’রছিল। একটা লোক চারিদিকেই ত আর চোখ রাখতে পারে না।”

 ইংলণ্ডের ব্যাঙ্কে যে সকল লোক কাজ-কর্ম্ম করিতে আসিতেন, ব্যাঙ্কের কর্ত্তৃপক্ষগণ তাঁহাদের সাধুতা সম্বন্ধে কখনো সন্দেহ করেন নাই। কেহ নোট দেখিতেছেন, কেহ সোনা পরীক্ষা করিতেছেন, কেহ বা জহরত হস্তে লইরাছেন। পরীক্ষান্তে সকলেই আবার সেই নোট বা স্বর্ণ বা মূল্যবান্ প্রস্তরাদি প্রত্যর্পণ করিতেছেন। এই রূপেই কার্য্য চলিত। কিন্তু সে দিন যিনি নোট লইয়াছিলেন, তিনি আর উহা প্রত্যর্পণ করিলেন না। বেলা পাঁচটার সময় যখন ব্যাঙ্ক বন্ধ হইল, তখন হিসাব নিকাশ করিয়া জানা গেল, ব্যাঙ্কের সার্দ্ধ অষ্টলক্ষ মুদ্রা অপহৃত হইয়াছে!

 অমনি চারিদিকে সুনিপুণ গোয়েন্দা পুলিশ ছুটিল। কেহ লিভারপুল, কেহ গ্ল্যাস্‌গো, কেহ বা অন্যান্য বন্দরে দস্যুর সন্ধানে গমন করিল। সুদূর সুয়েজ, ব্রিন্দিসি, নিউইয়র্ক প্রভৃতি পর্য্যন্ত বাদ গেল না। ব্যাঙ্কের কর্ত্তা প্রকাশ করিলেন, চোর ধরিতে পারিলে ৩০ সহস্র মুদ্রা পুরস্কার ত মিলিবেই, তদ্ভিন্ন অপহৃত অর্থের যে পরিমাণ উদ্ধার হইবে, তাহার উপর শতকরা ৩০ মুদ্রা হিসাবে কমিশন পর্য্যন্ত প্রদত্ত হইবে।

 “মর্নিং ক্রণিকেল” পাঠে জানা গেল যে, ঘটনার দিন ভদ্রবেশধারী,