মিনিট প্রভৃতি গণনা করিতেছেন। তাঁহার নয়নদ্বয় তখন অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখাইতেছিল। সে নয়নে কি যে একটা ভাব প্রকাশিত হইতেছিল তাহা কেহ বলিতে পারে না। কিন্তু ইহা নিশ্চিতই যে তাহা অস্বাভাবিক এবং ভীষণ! তিনি কি তবে পলায়ন করিবার সুযোগ সন্ধান করিতেছিলেন? তাহা হইতে পারে। নতুবা আসন পরিত্যাগ করিয়া পুনঃ পুনঃ উঠিবেন কেন? তিনি কি বুঝিতে পারেন নাই যে, সে কক্ষের দ্বার—সে গৃহের গবাক্ষ ভগ্ন করিয়া পলায়ন মনুষ্য-সাধ্যাতীত!
ঘুরিতে ঘুরিতে ক্লান্ত হইয়া ফিলিয়াস্ ফগ একখানি চেয়ারে উপবেশন করিলেন এবং পকেট হইতে রোজ নামচার পাতাখানি বাহির করিয়া পাঠ করিলেন—“২১শে ডিসেম্বর, শনিবার—লিভারপুল।”
মিঃ ফগ তন্নিম্নে লিখিলেন—
“৮০ দিনের দিন বেলা ১১টা ৪০ মিনিট।”
ফিলিয়াস্ ফগ নির্ব্বাক্ হইয়া নীরবে অপেক্ষা করিতে লাগিলেন। কাষ্টম্স্ গৃহের ঘড়িতে টং করিয়া বেলা ১টা বাজিল। মিঃ ফগ দেখিলেন তাঁহার নিজের ঘড়ী ২ মিনিট অগ্রগামী।
দুইটা বাজিল। যদি তখনো তিনি মুক্তি পাইতেন এবং একখানি দ্রুতগামী এক্সপ্রেস ট্রেণ ধরিতে পারিতেন, তাহা হইলেও তাঁহার জয় হইত!
পনের মিনিট গেল—কুড়ি মিনিট গেল—অর্দ্ধঘণ্টা অতীত হইল! আর ভরসা নাই!
অকস্মাৎ ও কিসের শব্দ হইল! ঝন্―ঝন্—ঝনাৎ! কারাকক্ষের রুদ্ধদ্বার সহসা মুক্ত হইল। রাণী আউদা গোয়েন্দা ফিক্স ও জিয়েন দৌড়াইয়া কক্ষমধ্যে প্রবেশ করিলেন।
গোয়েন্দা ব্যগ্র ভাবে কহিলেন “মিঃ ফগ, ক্ষমা করুন—ক্ষমা করুন। ভুলে আপনাকে ধরা হয়েছিল! আসল চোর ধরা পড়েছে! আপনার