বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৯৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ—রাণী আউদা
১৮৫

 তাহার কক্ষের গ্যাসের আলোক তখনো জ্বলিতেছিল, সে আর কাল বিলম্ব না করিয়া বাতিটা নির্ব্বাপিত করিল।

 ক্রমে রাত্রি আসিল। রজনী গভীরা হইল। সকলেই শয়ন করিলেন। মিঃ ফগ নিদ্রা গিয়াছিলেন কি না কেহ বলিতে পারে না। রাণী আউদা সমস্ত রাত্রি ভাবিয়া জাগিয়া কাঁদিয়া কাটাইয়াছিলেন। আর জিয়েন? সে অনুরক্ত ভৃত্যের ন্যায় প্রভুর দ্বারদেশে বিনিদ্র-নয়নে বসিয়া ছিল।

 পরদিন প্রভাতে মিঃ ফগ ভৃত্যকে ডাকিয়া কহিলেন; “রাণী আউদার প্রাতরাশের বন্দোবস্ত কর। বলে এসো আজ সন্ধ্যার সময় আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাই।”

 জিয়েনের হৃদয় তখনো বেদনায় মথিত হইতেছিল। তাহার কর্ত্তব্যবুদ্ধি তাহাকে কেবলই বলিতে লাগিল ‘রে হতভাগ্য! তোর দোষেই ত সোনার সংসার শ্মশান হ’লো! মিঃ ফগকে আগে একটু সতর্ক করলেই ত এমন ঘটিত না।’ জিয়েন আর নীরব থাকিতে পারিল না। বাষ্পনিরুদ্ধ কণ্ঠে কহিল, “প্রভু, আপনার দুর্দ্দশার জন্য আপনি আমাকে অভিসম্পাত করুন। আমার দোষেই ত—”

 গম্ভীর অথচ শান্ত কণ্ঠে মিঃ ফগ উত্তর করিলেন, “আমার দুর্দ্দশার জন্য আমি কাহাকেও দোষী করি না। তুমি আপনার কাজে যাও।”

 জিয়েন প্রস্থান করিল এবং রাণী আউদার নিকট যাইয়া সকল কথা নিবেদন করিতে করিতে দুঃখে বালকের মত রোদন করিতে লাগিল। কহিল, “আমি কিছুতেই প্রভুর মন শান্ত করতে পারলেম না। আপনি একটু বুঝিয়ে বল্‌লে তিনি হয়ত শুনবেন।”

 “তুমি বল্লে না, আজ সন্ধ্যার সময় তিনি আমার সঙ্গে দেখা করবেন বলেছেন?”