“হাঁ তাই ত তিনি বলেছেন। বোধ হয় আপনার ইংলণ্ডে থাকা সম্বন্ধেই কথা হবে।”
“তা হ’তেও পারে।”
জিয়েন কার্য্যান্তরে বিদায় হইল। রাণী আউদা নীরবে অশ্রু বিসর্জ্জন করিতে করিতে নিজের ও মিঃ ফগের বিষয় চিন্তা করিতে লাগিলেন। মিঃ ফগের পরাজয়ের সকল দোষ নিজের উপর আরোপ করিয়া তিনি আরো বেদনা-পীড়িত হইলেন। মনে মনে ভাবিলেন মিঃ ফগের উপর একটা বোঝার মত না থাকিলে, ফগ হয়ত অবলীলাক্রমে বাজি জয় করিতে পারিতেন। তাঁহার জন্যই ত বোম্বাইয়ের পথে দুই দিন বিলম্ব হইয়াছিল!
মিঃ ফগ সেদিন আর সংস্কার-সমিতিতে গেলেন না। কেনই বা যাইবেন? তিনি সমস্ত দিন কক্ষদ্বার রুদ্ধ করিয়া আপনার ভবিষ্যৎ কর্ত্তব্য স্থির করিতেছিলেন। জিয়েন মুহূর্ত্তের জন্যও সে রুদ্ধদ্বার ত্যাগ করিল না। কক্ষমধ্যে সামান্য একটু শব্দ হইবা মাত্রই সে উৎকর্ণ হইয়া শুনিতেছিল—বুঝি বা কোন দুর্ঘটনা ঘটিল। দ্বারসংলগ্ন তালার ছিদ্রপথে সে মধ্যে মধ্যে গৃহের ভিতর দৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া মিঃ ফগকে দেখিয়া লইতেছিল।
ক্রমে সন্ধ্যা হইল। সাড়ে সাতটার সময় মিঃ ফগ রাণী আউদার কক্ষমধ্যে আসিয়া প্রজ্বলিত অগ্নির পার্শ্বে একখানি চেয়ারে উপবেশন করিলেন। যে দিন তিনি আপন গৃহদ্বার রুদ্ধ করিয়া, কত আশা কত উৎসাহ হৃদয়ে লইয়া পৃথিবী-পর্য্যটনে বহির্গত হইয়াছিলেন, সে দিনও তিনি যেমন ছিলেন—পর্য্যটনে পরিশ্রান্ত ভগ্নহৃদয় বিনষ্টসর্ব্বস্ব মিঃ ফগ আজিও ঠিক তেমনিই দেখাইতেছিলেন। তেমনি ধীর—তেমনি স্থির—তেমনি শান্ত—শৈলসদৃশ তেমনি অটল!