কিছুক্ষণের জন্য নীরব থাকিয়া তিনি রাণী আউদাকে কহিলেন—“আপনাকে ইংলণ্ডে এনে বড় অপরাধ করেছি। সে জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করছি।”
আউদার হৃদয় অতিমাত্র চঞ্চল হইয়া উঠিল। মিঃ ফগের মুখে―তাঁহার জীবনদাতা রক্ষাকর্ত্তার মুখে―মার্জ্জনা ভিক্ষা? তিনি কোন প্রকারে হৃদয়বেগ রুদ্ধ করিয়া কহিলেন, “কে ক্ষমা ক’রবে? আমাকে বল্ছেন?”
“আমার আর একটু বলতে বাকি আছে—অনুগ্রহ করে’ শুনুন। আমি যখন আপনাকে এখানে আসতে বলি, তখন আমার অর্থের অভাব ছিল না। আমি ভেবেছিলাম সেই অর্থের একাংশ আপনার জন্য ব্যয় করবো। আপনি তা’ হ’লে স্বাধীনভাবে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারতেন। আপনি ত জানেন এখন আমার সব গেছে!”
“মিঃ ফগ, আমি সবই জানি। আপনার সঙ্গে সঙ্গে একটা ভারি বোঝার মত আসাটাই আমার অন্যায় হয়েছে! আমিই সে জন্য আপনার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করছি। আমিই ত আপনার ক্ষিপ্রগতির অন্যতম বাধা ছিলাম। পথে আপনার কত বিলম্বই না ঘটিয়েছি। তা না হ’লে আজ কি এমন দুর্দ্দশা হয়! আমি তপ্ত অনলে পুড়ে মরছিলেম—সেই ছিল ভাল!”
“আপনার জন্য আমার একদিনও বিলম্ব ঘটে নাই। সে জন্য আপনি দুঃখিত হবেন না। আপনি ভারতবর্ষে নির্ব্বিঘ্নে থাকতে পারতেন না। একবার যারা আপনাকে জীবন্তে বন্ধ করতে চেয়েছিল, তারাই আবার আপনাকে খুঁজে বাহির করতো!”
“আপনি পরম দয়ালু, তাই সেই বিপদ্ থেকে আমাকে উদ্ধার ত করেইছিলেন, অপরিচিত দেশে এসে আমি যাতে স্বাধীনভাবে সুখে