বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:৮০ দিনে ভূপ্রদক্ষিণ - রাজেন্দ্রলাল আচার্য.pdf/১৯৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ—রাণী আউদা
১৮৯

 রাণী আউদা সহসা আসন ত্যাগ করিয়া উঠিলেন এবং আপন দক্ষিণ কর বাড়াইয়া দিয়া বলিলেন, “মিঃ ফগ, একাধারে আত্মীয়া এবং বন্ধু পেতে কি আপনার সাধ হয়? আপনি কি আমায় স্ত্রী বলে গ্রহণ করবেন?”

 মিঃ ফগও আসন ত্যাগ করিয়া উঠিয়াছিলেন। তাঁহার ওষ্ঠদ্বয় ঘন ঘন কম্পিত হইতে লাগিল— নয়নদ্বয় অসাধারণ ঔজ্জ্বল্য লাভ করিল। আউদা তাঁহার দিকে স্থির দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিলেন। সে দৃষ্টির ভিতর দিয়া রমণীর প্রেম, বাঞ্ছিতের জন্য সর্ব্বস্ব দানের সুদৃঢ় পণ যেন ফুটিয়া বাহির হইতেছিল। সে দৃষ্টি কত কোমল কত সুন্দর কত সরল।

 মিঃ ফগ আর আউদার দিকে চাহিতে পারিলেন না। তাঁহার, নয়নদ্বয় মুদ্রিত হইয়া আসিল। তাঁহার কণ্ঠ বাক্য বিস্মৃত হইল। কিছুক্ষণ পরে ধীর অথচ দৃঢ় কণ্ঠে কহিলেন, “রাণী আউদা, ধর্ম্ম সাক্ষী করে বলতে পারি, আমি আপনাকে প্রাণাপেক্ষা অধিক ভালবাসি। জীবনে মরণে আমি আপনার।”

* * * *

 মিঃ ফগ ডাকিলেন, “জিয়েন!”

 জিয়েন কক্ষমধ্যে প্রবেশ করিয়াই সমস্ত বুঝিতে পারিল। তখনো মিঃ ফগ আবেগপূর্ণ হৃদয়ে আপন করমধ্যে রাণী আউদার সুকোমল কর রক্ষা করিতেছিলেন। ফিলিয়াস্ ফগ ডাকিলেন, “জিয়েন!”

 “আজ্ঞা।”

 “মেরিলি বোন গির্জ্জার পুরোহিতকে এখনই বিবাহের সংবাদটা দিতে হবে। এখনো বেশী রাত হয় নি।”

 হৃষ্টচিত্তে জিয়েন কহিল, “এ সংবাদের কি আর সময় অসময় আছে!