আচারে ব্যবহারে সুমার্জ্জিত একটি লোককে ব্যাঙ্কের নোট পরীক্ষা করিতে দেখা গিয়াছিল। তাহার পরিচ্ছদ ও আকৃতির বর্ণনা গোয়েন্দাদিগকে দেওয়া হইয়াছিল বলিয়াই, ব্যাঙ্কের কর্ত্তাগণ বিশ্বাস করিয়াছিলেন, চোর অবশ্যই ধরা পড়িবে। সংবাদপত্রসমূহে এই বিষয় লইয়া তখন নানারূপ আন্দোলন চলিতেছিল।
মিঃ রাল্ফ ভাবিয়াছিলেন, পুরস্কারের লোভে গোয়েন্দাগণ নিশ্চয়ই প্রাণপণে চেষ্টা করিবেন। তাহা হইলেই দস্যু ধৃত হইবে। আল ষ্টুয়ার্টের যুক্তি-তর্ক অন্যরূপ ছিল। হুইষ্ট খেলিতে খেলিতে তাই তাঁহাদিগের মধ্যে এই বিষয়ের আলোচনা চলিতেই লাগিল। ষ্টুয়ার্ট কহিলেন—“চোর যে একজন চতুরচূড়ামণি, তা’ বেশ বোঝাই যাচ্ছে। আমার ত বিশ্বাস, সে নিশ্চয়ই পালাবে।”
রাল্ফ কহিলেন, “পালাবে ত—কিন্তু কোথায় যাবে বলুন দেখি?”
“হুঁ! কোথায় আবার যাবে, স্থানের কি অভাব আছে!”
“আচ্ছা, বলুনই না, কোথায় যাবে।”
“তা আমি জানি না। তবে পৃথিবীটা ত আর এতটুকু নয়! পালাবার স্থানের আবার ভাবনা।”
ফিলিয়াস্ ফগ ফ্ল্যানাগানের হস্তে তাস দিয়া কহিলেন, “কাটুন,” তাহার পর মিঃ ষ্টুয়ার্টের কথার উত্তরে অনুচ্চস্বরে কহিলেন, “এককালে পৃথিবীটা বড়ই ছিল―এখন আর সে দিন নাই।”
কেহ সে কথা তখন ততটা গ্রাহ্য করিলেন না। এক বাজী শেষ হইলে পর ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “এক কালে বড় ছিল মানে কি? পৃথিবী কি এখন ছোট হ’য়ে গেছে না কি?”
রাল্ফ কহিলেন, “নিশ্চয়ই তাই। একবার পৃথিবীটা ঘুরে আসতে এখন যে সময় লাগে, আগে তার দশগুণ বেশী লা’গত। তবেই ত