আমেরিকা, এসিয়া, চীন, জাপান, ভারতবর্ষ প্রভৃতি নানাস্থানে প্রতিদিন টেলিগ্রাম প্রেরিত হইতে লাগিল, কিন্তু মিঃ ফগের কোন সন্ধান হইল না। পুলিশ-বিভাগ হইতে গোয়েন্দা ফিক্সের অনুসন্ধান আরম্ভ হইল—কিন্তু তাহার কথাও কেহ বলিতে পারিল না।
ফগ এবং ফিক্স তবে কোথায় গেলেন! ইংলণ্ডের প্রতি ভোজনাগারে, পানাগারে, প্রতি সংবাদপত্রে, চা-পানের কক্ষে এই একই কথাই আলোচিত হইতে লাগিল। তাঁহারা যেখানেই থাকুন, মিঃ ফগের উপর বাজি ধরা বন্ধ হইল না। বাজির পণ অতি-মাত্রায় বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইল।
শনিবার। ২১শে ডিসেম্বর। সন্ধা হইতে না হইতেই শত সহস্র লোক পল্মলে সমবেত হইল। কত লোক সংস্কার-সমিতির গৃহ ঘিরিয়া ধরিল। সকলেরই মুখে এক কথা, “আজ মিঃ ফগের আসিবার দিন।” রাজপথে এমন জনতা হইল যে, গাড়ী, ঘোড়া, ট্রাম সমস্তই বন্ধ হইয়া গেল! তখনো লোকে বিবাদ, বিচার, বিতর্ক করিতে ক্ষান্ত হইয়াছিল না। তখনো বাজি ধরা সমানেই চলিতেছিল! রাজপথে কাহার কোন্ বিপদ্ ঘটে, সেই জন্য পুলিশ হইতে বিশেষ বন্দোবস্ত করা হইল। লোকের উপর লোক—তাহার উপর আবার লোক! চারিদিকে গণ্ডগোল, কোলাহল এবং ছুটাছুটি! তখন সন্ধ্যা হইয়াছিল।
সংস্কার-সমিতির সদস্যগণ সন্ধ্যার প্রাক্কালেই সমিতির কক্ষমধ্যে সমবেত হইয়াছিলেন। আটটা বাজিয়া কুড়ি মিনিটের সময় এঞ্জিনিয়ার আন্দ্রু ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “ভদ্রমহোদয়গণ! আর ২৫ মিনিট পরেই ত নির্দ্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হইবে। কৈ মিঃ ফগ ত এখনো আসিলেন না?”
ফ্ল্যামাগেন জিজ্ঞাসা করিলেন, “লিভারপুলের শেষ ট্রেণ ক’টায় লণ্ডনে আসে?”