রাল্ফ কহিলেন, “সাতটা তেইশ মিনিটে। তার পরের ট্রেণ দ্বিপ্রহর রজনীর পূর্ব্বে আসে না।” মিঃ ষ্টুয়ার্ট তখন বলিতে লাগিলেন,—
“তা হলেই দেখুন, মিঃ ফগ যদি সেই ৭ টা ২৩ মিনিটের ট্রেণেই আসতেন, তা হলে এতক্ষণ আমরা তাঁকে নিশ্চয়ই এখানে পেতাম। কাজেই বাজিটা আমারই জিত।”
ফলেন্টিন্ কহিলেন, “অত ব্যস্ত হবেন না। মিঃ ফগের রীতিনীতি ত আপনাদের জানাই আছে। তাঁর মাথাটা তেমন ঠিক থাকে না বটে, কিন্তু তিনি যে সকল কাজই ঠিক নির্দ্দিষ্ট সময়ে করেন সেটা ত আমাদের জানাই আছে। তিনি যদি ঠিক শেষ মুহূর্ত্তেও এসে হাজির হ’ন, আমি ত আদৌ বিস্মিত হ’ব না।”
মিঃ ষ্টুয়ার্ট বলিলেন, “যদি তাঁকে দেখিও, তা’হলেও আমার বিশ্বাস করতে সাহস হবে না যে সত্যই মিঃ ফগ এসেছেন।”
ফ্ল্যানাগেল কহিলেন, “মিঃ ফগের প্রস্তাবটাই একটা পাগলামী। যতই কেন তিনি ঘড়ীর কাঁটায় কাঁটায় কাজ করুন না, পথে বার হলেই, কোন রকমে না কোন রকমে দুই একদিন বিলম্ব হবেই হবে। একদিন দু’দিন দেরি হলেই ত ফগের সকল বন্দোবস্ত উল্টে যাবে।”
সলিভান বলিলেন “আরো দেখুন, পৃথিবীর সকল স্থানেই টেলিগ্রাফ আছে। আজ পর্য্যন্ত কি মিঃ ফগের কাছ থেকে আপনারা এক খানা টেলিগ্রামও পেয়েছেন?”
প্রত্যুত্তরে সকলেই কহিল, “না।” আজ ষ্টুয়ার্ট বিদ্রূপের ভাবে বলিতে লাগিলেন, “আমার বোধ হয় মিঃ ফগ এই বিপুলা পৃথিবীর মধ্যে হারিয়ে গেছেন! যে ষ্টীমারে তাঁর আসার সম্ভাবনা ছিল, সে ত হ’লো ‘চায়না’। চায়না ত কালই এসেছে। এই দেখুন চায়নার আরোহীদের তালিকা। এতে ত মিঃ ফগের নাম নাই! আর