যে সব জাহাজ আছে তার একখানাও ঠিক সময়ে আসে নাই। খুব বেশী কাছে এসে থাকলেও মিঃ ফগ নিশ্চয়ই এখনো আমেরিকা ছাড়াতে পারেন নি। এখনো তাঁর আসতে আরো ২০ দিন লাগবে!”
হর্ষোৎফুল্ল হইয়া মিঃ রাল্ফ বলিলেন, “তবে আর কি! কালই বারিংএর গদী থেকে মিঃ ফগের টাকাগুলো আনা যাক্।”
ঘড়ির দিকে চাহিয়া মিঃ ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “আর পাঁচ মিনিট!”
বন্ধুগণ তখন পরস্পর পরস্পরের মুখের দিকে চাহিতে লাগিলেন। তাঁহাদিগের হৃদয়ের স্পন্দন-ধ্বনি যেন বাহির হইতে শ্রুত হইতে লাগিল।
উঃ পাঁচ মিনিট এত দীর্ঘ―যেন আর যায় না!
মিঃ ফলেন্টিন্ কহিলেন,—“আর কেন? জয় ত আমাদেরই হ’লো, আসুন এখন খেলা যাক। ওই দেখুন, পাঁচ মিনিটের দুই মিনিট গেল!”
তাঁহারা খেলিবার জন্য তাস তুলিয়া লইলেন। কিন্তু কক্ষপ্রাচীরসংলগ্ন ঘড়ী হইতে চক্ষু কিছুতেই ফিরিতে চাহিল না! তাঁহারা মনে মনে বুঝিয়াইছিলেন যে বাজিতে তাঁহাদিগেরই জয় সুনিশ্চিত, তবুও সময় যেন আর যাইতেছিল না! তিন মিনিট ত নয়—যেন তিন বৎসর!
তাস কাটিতে কাটিতে রাল্ফ কহিলেন, “আর দু’মিনিট!”
সহসা গৃহের বাহিরে—যেখানে বিশাল লোকসমাগম হইয়াছিল, তথা হইতে একটী হল্হলা রব সমুত্থিত হইল। সকলে মোহিত হইলেন। সদস্যগণ তখন সেকেণ্ডের টক্ টক্ শব্দ পর্য্যন্ত গণনা করিতেছিলেন।
কম্পিত কণ্ঠে সলিভান কহিলেন, “আর এক মিনিট!” ফ্ল্যানাগেন হস্তস্থিত তাস টেবিলের উপর রাখিয়া গণিতে লাগিলেন,—
“এক-দুই—তিন—চার—পাঁচ”—