থেলিতে খেলিতে মিঃ ফগ কহিলেন, “সে সব ধ’রে বৈ কি।”
“সে সব ধ’রেই! মনে করুন, যদি আমেরিকাবাসী ইণ্ডিয়ানেরা পথ থেকে রেল উঠিয়ে রাখে, কি ট্রেণ থামিয়ে লুট-পাট করে, কি চলন্ত ট্রেণে লাফিয়ে উঠে যাত্রীদের আক্রমণ করে, তা’ হলেও—
ধীরভাবে মিঃ ফগ উত্তর করিলেন, “হাঁ, তা হ’লেও বৈ কি! এই দেখুন, দুখানা রং আমার হাতে! এ বাজী আমার।”
মিঃ ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “কি জানেন মিঃ ফগ, কাগজপত্রের হিসাবে হয় ত আপনার কথাই ঠিক হতে পারে। কিন্তু হাতে কলমে করতে গেলে—”
“মিঃ ষ্টুয়ার্ট হাতে কলমেও ঐ হিসাব ঠিক।”
“আমার ইচ্ছা হয় যে, আপনি একবার করে দেখান।”
“সে ত আপনার উপরেই নির্ভর করে। চলুন না, দু’জনে এক সঙ্গেই যাই।”
“ধর্ম্ম রক্ষা করুন! এমন একটা অদ্ভুত পর্য্যটন বর্ত্তমান অবস্থায় অসম্ভব। আপনি যদি ক’রতে পারেন, আমি ৬০ হাজার টাকা দিব।”
“আপনার বড় ভুল হচ্ছে মিঃ ষ্টুয়ার্ট, এ পর্য্যটন খুবই সম্ভব!”
“বেশ ত। আপনিই তবে করুন না কেন?”
“৮০ দিনে পৃথিবীটা ঘুরে আসা—কেমন এই ত?”
“হাঁ।”
“বেশ, আমিই যাব।”
“কবে?”
“এই দণ্ডেই—তবে আগে বলে রাখি সমস্ত খরচ আপনার।”
ফগের দৃঢ়তা দেখিয়া ষ্টুয়ার্ট একটু বিরক্ত হইতেছিলেন। বলিলেন,—“এ সব বাজে কথা! আসুন, খেলা যাক।”