আপনিই তবে আরম্ভ করুন—সেবারে আপনি ভুল তাস দিয়েছিলেন।”
আন্দ্রু ষ্টুয়ার্ট খেলিবার জন্য তাস কুড়াইয়া লইয়াই পুনরায় উহা টেবিলের উপর রাখিয়া কহিলেন, “দেখুন মিঃ ফগ, আপনি যদি প্রস্তুত থাকেন, আমি সত্যই ৬০ হাজার টাকা বাজী ধ’রবো।”
কথা শুনিয়া ফলেণ্টিন্ কহিলেন, “ষ্টুয়ার্ট ভায়া, আর হাসিয়ো না। এ যে ঠাট্টা তা কি বুঝ্তে পারছো না?”
সুদৃঢ়কণ্ঠে ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “আমি যখন বলেছি—বাজী ধরবো, তখন কিছুতেই সে কথা মিথ্যা হবে না।”
ফগ কহিলেন, “বেশ ভাল। আমিও পশ্চাৎপদ নই। বারিংএর গদীতে আমার তিন লক্ষ টাকা জমা আছে। আমিও তবে সেই টাকাই বাজা ধরচি।” সলিভান্ আশ্চর্য্যান্বিত হইয়া কহিলেন, “তিন লক্ষ টাকা বাজী! একটু সামান্য কিছু গোলযোগ ঘটলেই ত আপনার সমস্ত টাকা যাবে। পথে কত বিঘ্ন আছে। এখন বুঝতে পারা যাচ্ছে না, কিন্তু তেমন সামান্য কিছু একটা—”
প্রত্যুত্তরে মিঃ ফগ কেবল কহিলেন, “অদৃষ্টপূর্ব্ব এমন কিছুই ঘটতে পারে না।”
“এই যে ৮০ দিনের হিসাব, এর চেয়ে কমে কিন্তু পৃথিবী ভ্রমণ সম্ভব নয়।”
“বেশ ত। ঠিক মত ধরতে পারলে কমেই কার্য্য সিদ্ধি হয়।”
“আপনাকে বহুবার ট্রেণ থেকে ষ্টীমারে, ষ্টীমার থেকে ট্রেনে উঠানামা ক’রতে কবে। একটু দেরি হলে ত চলবে না।”
“আমার দেরিই হবে না!”