“আপনি নিশ্চয়ই ঠাট্টা কর্ছেন।”
“ঠাট্টা! একজন খাঁটী ইংরাজ বাজী ধরে’ কখনো ঠাট্টা করে না। আপনাদের যাঁর-তাঁর সঙ্গে আমি তিন লাখ টাকা বাজী ধ’র্তে প্রস্তুত আছি যে, আমি ৮০ দিনে কিংবা তার চেয়েও কমে পৃথিবী পরিভ্রমণ কর্বো। ৮০ দিনে অর্থাৎ ১৯২০ ঘণ্টায় কিংবা ১১৫২০০ সেকেণ্ডে! আপনারা স্বীকার আছেন?”
সকলে পরামর্শ করিয়া কহিলেন, “হাঁ স্বীকার।”
“বেশ, ডোভার মেল ৮.৪৫ মিনিটে ছাড়ে। আমি তাতেই যাত্রা করবো।”
ষ্টুয়ার্ট কহিলেন, “কি, আজই সন্ধ্যায়?”
“হাঁ আজই, সন্ধ্যায়। আজ ২রা অক্টোবর, বুধবার। ২১ ডিসেম্বর শনিবার পৌনে ন’টার সময় আমি লণ্ডনের এই কক্ষে এসে উপস্থিত হব। যদি না পারি, তবে বারিংএর গদীতে আমার যে তিন লক্ষ টাকা গচ্ছিত আছে, সে সমস্তই আপনাদের হবে। এই নিন, সে টাকার চেক রাখুন।”
তন্মুহূর্ত্তেই বাজীর সর্ত্তগুলি লিপিবদ্ধ করা হইল। উভয় পক্ষেই সেই পত্রে স্বাক্ষর করিলেন।
ফিলিয়াস্ ফগ তখনো ধীর, স্থির, অচঞ্চল। তিনি জানিতেন, তাঁহার যথাসর্ব্বস্ব ছয় লক্ষ মুদ্রা। এই অদ্ভুত ভ্রমণ-ব্যাপারেই তাহার অন্ততঃ অর্দ্ধেক বার হইয়া যাইবে; তাই তিনি তিন লক্ষ মুদ্রা বাজী ধরিয়াছিলেন। তাঁহার বন্ধুগণ অত্যন্ত চঞ্চল হইয়া উঠিলেন। সে চাঞ্চল্য অর্থের জন্য নহে। এমন অবস্থায়, এমন বিষয়ে বাজী ধরিলে আপনা হইতেই যেন বক্ষ কম্পিত হয়।
মিঃ ফগ তখনও তাসই খেলিতেছিলেন! দেখিতে দেখিতে সাতটা