আদেশের মর্ম্ম সে ঠিক বুঝিয়া উঠিতে পারিল না। কহিল, “আপনি কি বাহিরে যাচ্ছেন?”
“হাঁ। আমরা একবার পৃথ্বী-পর্য্যটনে যাচ্ছি।” কথাটা শুনিবামাত্রই জিয়েনের নয়নদ্বয় বিস্ফারিত হইয়া উঠিল। সে কিংকর্ত্তব্যবিমূঢ়ের মত দাঁড়াইয়া আপন মনে বলিল,—
“পৃথ্বী-পর্যাটনে!”
“হাঁ, ৮০ দিনে; চল, আর সময় নাই।”
“জিনিষ-পত্র?”
“বিশেষ কিছু আবশ্যক নাই। একটা কার্পেটের ব্যাগ নিলেই চল্বে। দুটো কামিজ আর তিন জোড়া মোজা ব্যাগের মধ্যে নাও। তোমার নিজের জন্যও তাই নিও। যা কিছু আবশ্যক হবে, পথে যেতে যেতে কিনে নিলেই চলবে। আমার ম্যাকিণ্টস আর বড় কোটটা নিও। আমাদের বড়-বেশী হাঁটতে হবে না। তবুও জোড়া দুই মজবুত বুট যেন সঙ্গে থাকে। এ কি! চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলে যে! স্ফুর্ত্তি কর!”
জিয়েন অবাক্! সে তাড়াতাড়ি আপন কক্ষে প্রবেশ করিয়া হতাশের মত একখানা চেয়ারে বসিয়া পড়িল। আপন মনে বলিতে লাগিল, ‘আমার অদৃষ্টে দেখছি বেশ হ’ল। দু’দিন একটু শান্তিতে থাকব ভেবেছিলেম, তা ত খুবই ঘট্লো।’
সময় নাই। ৮০ দিনে পৃথ্বী-পরিভ্রমণ! জিয়েন যন্ত্রচালিত পুত্তলিকার ন্যায় জিনিষ-পত্র গুছাইতে লাগিল। শত সহস্র চিন্তা তাহাকে অত্যন্ত চঞ্চল করিয়া তুলিল। ৮০ দিনে পৃথিবী-পর্য্যটন! তবে কি আমি উন্মাদের চাকুরি লইলাম? না——না—এটা কখনো সম্ভব নয়। ও সবই তামাসা মাত্র। পাঁচ বৎসর দেশ ছেড়েছি, পাঁচ বৎসর পর আবার স্বদেশের মুখ দেখতে